প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পাবলিক সার্ভিস কমিশন

বিসিএস পরীক্ষাসহ সরকারি বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনার তদন্তে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।

মঙ্গলবার ৯ জুলাই সকালে পিএসসির চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পিএসসির যুগ্ম সচিব ড. আব্দুল আলীম খান। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন, কমিশনের পরিচালক দিলাওয়েজ দুরদানা এবং মোহাম্মদ আজিজুল হক।

গত ১২ বছরে বিসিএসসহ ৩০টি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পিএসসির কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার ৮ জুলাই পিএসসি এর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সে বেসরকারি টেলিভিশনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি উঠে এসেছে তা তদন্ত করে দেখা হয়ে। পরীক্ষার দুইদিন পরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের বিষয়টি যথাযথ কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গত ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ রেলওয়ের নন-ক্যাডার ‘উপসহকারী প্রকৌশলী’ পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পরীক্ষা শুরুর ১ ঘণ্টা আগে প্রতিবেদকের হোয়াটসঅ্যাপে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষ নিয়মের ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁস হবার সম্ভাবনা থাকে না দাবি করে বলা হয়েছে, নন-ক্যাডার পরীক্ষার ক্ষেত্রে কমিশনের চেয়ারম্যান, দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য ও পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সদস্যসহ কর্মকর্তা এবং কর্মচারীগণ উপস্থিত থাকেন। গত ৫ জুলাই ২০২৪ তারিখ শুক্রবার বাংলাদেশ রেলওয়ের নন-ক্যাডার “উপসহকারী প্রকৌশলী” পদের নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে একই নিয়ম অনুসরণ করে সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে লটারি করে কোন সেটের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে সে বিষয়টি সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে সংশ্লিষ্টদের এসএমএস-এর মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়। এ কারণে কোন সেট প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে তা পরীক্ষা শুরুর এক ঘন্টা আগে কারোরই জানার সুযোগ নেই। কমিশনের আওতাভুক্ত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, প্রশ্নপত্র সমীক্ষণ ও মুদ্রণ সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে করা হয় এবং তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়। এ সব কারণে পরীক্ষা শুরুর পূর্বে প্রশ্নপত্র ফাঁস হবার সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে জনগণের কাছে তথ্য চাওয়া ও বিষয়টি প্রমাণ হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের বিষয়টি যথাযথ প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি যে কোন ব্যক্তির নজরে আসার সাথে সাথে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকে। কিন্তু পরীক্ষা অনুষ্ঠানের দুইদিন পরে চ্যানেল টুয়েন্টিফোর কর্তৃক প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের বিষয়টি যথাযথ কিনা তা নিশ্চিত হবার কোন সুযোগ নেই। বিপিএসসি’র কার্যক্রম ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাংলাদেশের শিক্ষিত তরুণ সমাজসহ জনমনে সুদৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। বিপিএসসি’র নিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রম সকল মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।