
ইসরায়েলের কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল আকসা মসজিদে রমজানের প্রথম জুমায় প্রায় ৯০ হাজার মুসল্লি নামায আদায় করেছেন। শুক্রবার (৭ মার্চ) জেরুজালেমের ইসলামিক ওয়াকফের মহাপরিচালক শেখ আজ্জাম আল-খতিব তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
শেখ আজ্জাম আল-খতিব বলেন, আল আকসা মসজিদে শুক্রবার প্রায় ৯০ হাজার মুসল্লি জুমার নামাজে অংশ নিয়েছেন।
এদিন মসজিদের চারপাশে এবং জেরুজালেমের পুরাতন শহর জুড়ে ব্যাপকভাবে ইসরায়েলি পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। মুসল্লিদের আল আকসায় প্রবেশে বাধা দেওয়ার জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ নেয় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি পুলিশ ঘোষণা করেছিল, শুক্রবার পূর্ব জেরুজালেম জুড়ে ৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হবে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে জেরুজালেমে নামাজ আদায়ের জন্য আসা ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আনাদোলুকে জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পশ্চিম তীরের হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে আল আকসায় যেতে বাধা দিয়েছে। জেরুজালেমের আশেপাশের সামরিক চেকপয়েন্ট অতিক্রম করে তারা যেন যেতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘোষণা করেছে, শুধুমাত্র ৫৫ বছরের বেশি বয়সী পুরুষ, ৫০ বছরের বেশি বয়সী নারী এবং ১২ বছরের কম বয়সী শিশুরা আল আকসা মসজিদে প্রবেশ করতে পারবে। নামাজীদের পূর্ববর্তী নিরাপত্তা ছাড়পত্র নিতে হবে এবং নির্ধারিত ক্রসিংগুলোতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হবে।
এতসব কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ সত্ত্বেও জেরুজালেম এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরে আরব অধ্যুষিত শহরগুলো থেকে ফিলিস্তিনিরা মসজিদে প্রবেশ করেছে। আল আকসার রক্ষী, স্কাউট এবং স্বেচ্ছাসেবক দলগুলো নামাজীদের সহায়তা করেছে।
খুতবা চলাকালীন আল আকসার জুমার নামাজের ইমাম মুহাম্মদ সেলিম মুহাম্মদ আলী ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মসজিদে পৌঁছানোর জন্য মুসল্লিদের দৃঢ় সংকল্পের প্রশংসা করেন। পবিত্র স্থানটি রক্ষা এবং ঘন ঘন নামাজ আদায়ের জন্য আরও প্রচেষ্টার আহ্বান জানান তিনি।
নামাজ শেষে গাজা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত ফিলিস্তিনিদের জন্য গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পশ্চিম তীর থেকে পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশাধিকার সীমিত করে কঠোর ব্যবস্থা আরোপ করেছে। ফিলিস্তিনিরা এই নিষেধাজ্ঞাগুলোকে আল আকসা মসজিদসহ পূর্ব জেরুজালেমকে ইহুদিকরণ এবং এর আরব ও ইসলামী পরিচয় মুছে ফেলার ইসরায়েলের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে বিবেচনা করে থাকে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি