হজে যেতে না পারার স্বপ্নভঙ্গে কাতর ফিলিস্তিনের বৃদ্ধ দম্পতি!

বছরের পর বছর ধরে তারা অপেক্ষা করছিলেন মক্কার পানে যাত্রা করার, বাইতুল্লাহ শরিফ তাওয়াফ করবেন, নবির রওজা জিয়ারত করবেন। সে লক্ষ্যে অলংকারসহ অনেক কিছু বিক্রি করে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সে যাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইসরায়েলি হামলা-অবরোধ। আজন্ম লালিত সে স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় এখন কান্নাই সম্বল হয়ে দাঁড়িয়েছে ফিলিস্তিনি এক বৃদ্ধ দম্পতির। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

৬৭ বছর বয়সী মাহমুদ জারঘউন বলেন, তিনি এবং তার স্ত্রী ফাতিমা জারঘউন দীর্ঘদিন ধরে হজযাত্রার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু সে স্বপ্ন পূরণের সহজ কোনো পথ তাদের কাছে ছিল না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে তারা সেই মুহূর্তটির জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। অবশেষে নিজেদের অলংকার বিক্রি করে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেন তারা। এ বছরই হজযাত্রার নিয়ত করেছিলেন তারা।

কিন্তু এখন তাদের সঙ্গী কেবল কান্না। কারণ গাজা থেকে বের হয়ে আসার কোনো পথ না থাকায় তাদের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। মাহমুদ বলেন, আমরা একটি কারাগারের ভেতরে বাস করছি। রাফা সীমান্ত ছাড়া আমাদের ঢোকা বা বের হওয়ার কোনো উপায় নেই। আগেও এ ক্রসিং দিয়ে যাওয়া কষ্টকর ছিল। কিন্তু গত মে মাসে ইসরায়েল এ ক্রসিং দখল করে নিলে সেখান দিয়ে ঢোকা বা বের হওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

মাহমুদ জারঘউন যখন এ কথাগুলো বলছিলেন তখন তিনি বসেছিলেন খান ইউনিসে তার বাড়িতে, যে বাড়িটি ইসরায়েলি হামলায় গুড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, এখন আমাদের চারদিকে কেবল দুর্ভাগ্য ভর করেছে। কারণ আমরা আমাদের বাড়ি হারিয়েছি, যা মেরামত করতেই ২০ হাজার ডলার দরকার। এর ওপর সীমান্ত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আমরা আর হজে যেতে পারছি না। একসঙ্গে দুটি বড় আঘাতে আমি একেবারে মুষড়ে পড়েছি। আমাদেরকে এখন ঘিরে আছে যুদ্ধের বেদনা, ধ্বংসের বেদনা, অবরোধের বেদনা এবং হজে যেতে না পারার বেদনা।