
শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে মিয়ানমারে প্রাণহানি ১৬০০ ছাড়িয়েছে, আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৪০০-র বেশি মানুষ। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হয়নি।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) দুপুরে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। সেখানে ১৫০০-এর বেশি ঘর-বাড়ি ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
উদ্ধার অভিযানে যুক্ত এক স্বেচ্ছাসেবক বলেন, আমরা কতটা অসহায়, তা বলে বোঝানো যাবে না। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে মানুষের আর্তচিৎকার শুনছি, কিন্তু খালি হাতেই ধ্বংসাবশেষ সরানোর চেষ্টা করছি।
মান্দালয়ের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শহরের একটি হোটেল ধসে পড়েছে, যার নিচে অনেক মানুষ আটকা পড়েছেন। তিনি বলেন, “আমি মায়েদের কান্না শুনতে পাচ্ছি, যাদের সন্তান ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছে। এই দৃশ্য সহ্য করা যায় না।
ভূমিকম্পের প্রভাব শুধু মিয়ানমারেই সীমাবদ্ধ ছিল না, এর কম্পন অনুভূত হয়েছে থাইল্যান্ড ও চীনেও। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে নির্মাণাধীন ৩০ তলা একটি ভবন মুহূর্তেই ধসে পড়ে।
ভবনটির ধ্বংসস্তূপে অন্তত ১০০ জন শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সেখানে আটজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা জানান, ভবনটি এখনো দেবে যাচ্ছে, ফলে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
‘প্রথম দিকে আটকে পড়াদের সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল, কিন্তু এখন আর তেমন কোনো সাড়া নেই,’ বলেন উদ্ধার অভিযানে যুক্ত এক কর্মকর্তা। তবে তারা উদ্ধার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
ভূমিকম্পের পর থেকে বেশ কয়েকটি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। প্রথম কম্পনের ১২ মিনিট পর ৬.৪ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়, এরপরও কয়েক দফা মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে।
মিয়ানমারের মান্দালয়, সাগাইং, মাগওয়ে, বাগো, ইস্টার্ন শান রাজ্য ও নেপিডোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারিভাবে উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
সূত্র- বিবিসি