
গাজা উপত্যকায় বর্তমান ত্রাণ সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলে অভিযোগ করেছেন জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি। তিনি এটিকে অবরুদ্ধ ছিটমহলে ঘটে যাওয়া বিশাল মানবিক বিপর্যয়ের প্রতি ‘উপহাস’ বলে উল্লেখ করেছেন।
শনিবার (৩০ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি বিবৃতিতে লাজ্জারিনি বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহে ৯০০ ট্রাক ত্রাণ পাঠানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এটি গাজার মানুষের দৈনিক চাহিদার মাত্র ১০ শতাংশ।’
তিনি বলেন, ‘এখন যে সাহায্য পাঠানো হচ্ছে তা আমাদের নজরদারিতে ঘটে যাওয়া গণ বিপর্যয়ের প্রতি এক ধরনের উপহাস। গাজার মানুষ যখন অনাহারে এবং ভারী বোমাবর্ষণ থেকে বাঁচতে চেষ্টা করছে, তখন আমরা আবার দোষারোপের খেলায় ফিরে এসেছি।’
ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার প্রধান বলেন, ‘আমরা অসম্ভব কিছু চাইছি না। ইউএনআরডব্লিউএ, অন্যান্য মানবিক অংশীদারদের সহ জাতিসংঘকে কাজ করার অনুমতি দিন। অভাবী মানুষকে সহায়তা করা এবং তাদের মর্যাদা রক্ষা করার সুযোগ দিন।’
তিনি জানান, এর আগের যুদ্ধবিরতির সময় জাতিসংঘ প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৮০০ ট্রাক ত্রাণ পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছিল। এর ফলে সেই সময়ে দুর্ভিক্ষ সফলভাবে প্রতিরোধ করতে পেরেছিল। বর্তমানে গাজাবাসী যে ব্যাপক খাদ্যাভাবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাও বন্ধ করা যেতে পারে। তবে এর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল সমস্ত সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করার মাধ্যমে গাজার ২৪ লাখ বাসিন্দার জন্য খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরবরাহের প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে কমপক্ষে ৫৪ হাজার ৪০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখের বেশি আহত হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই নারী এবং শিশু।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি