
ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়াকে শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি ‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ফ্রান্স। শনিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পোস্টে বলা হয়, ‘ফ্রান্স যখন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন আমরা ১৯৪৯ সালের ২৪ জানুয়ারি ফ্রান্সের দেওয়া ইসরায়েল রাষ্ট্রের স্বীকৃতির কথা স্মরণ করতে পারি।’
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ফ্রান্সের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট শুম্যানের একটি ঐতিহাসিক চিঠির কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ১৯৪৯ সালে ইসরায়েলকে দেওয়া স্বীকৃতি তাদের চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো পূর্বশর্ত ছিল না। এই নীতির ওপর ভিত্তি করেই দেশটি এখন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পথে হাঁটছে।
এক্সে দেওয়া ওই পোস্টে আরও বলা হয়, ‘এক শতাব্দীর তিন-চতুর্থাংশ সময় পর, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পথে একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ।’
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফ্রান্সের এই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সীমান্তসহ চূড়ান্ত মর্যাদার বিষয়গুলোতে অপরিহার্য আলোচনা সহজ করতে সহায়তা করবে।
এর আগে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেন, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফ্রান্স আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ফ্রান্স বিশ্বের উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর জোট জি-৭ এর প্রথম সদস্য হিসেবে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪৭টি রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের অব্যাহত আগ্রাসনের মধ্যেই ফ্রান্স এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। এই সংঘাতে অন্তত ৬০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া, অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি