
গাজা শহর দখলের বিষয়ে ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হামাস। শুক্রবার (৮ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে গাজা শাসনকারী এই ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটি এ পদক্ষেপকে অবরুদ্ধ উপত্যকার বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধাপরাধ এবং জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়, ‘গাজায় ইসরায়েলের অনুপ্রবেশ কোনো প্রমোদভ্রমণের মতো হবে না।’ এই উপত্যকায় সামরিক অভিযান চালালে ইসরায়েলি বাহিনীকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
হামাসের অভিযোগ, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সরকার গাজায় আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের বিষয়ে কোনো উদ্বেগ দেখাচ্ছে না। বরং যেকোনো উপায়ে এই যুদ্ধের বিস্তার ঘটিয়ে তাদের জীবন উৎসর্গ করার পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিবৃতিতে ইসরায়েলি সরকারকে ‘নাৎসি’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়।
পাশাপাশি, ‘দখল’ শব্দের পরিবর্তে ‘নিয়ন্ত্রণ’ শব্দটি ব্যবহারের ইসরায়েলি প্রচেষ্টাকেও প্রত্যাখ্যান করেছে হামাস। তাদের মতে, এটি গাজা শহরের প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনির বিরুদ্ধে সংঘটিত ‘অপরাধের আইনি দায় এড়ানোর একটি স্পষ্ট কৌশল’।
প্রসঙ্গত, ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা সম্প্রতি তাদের এক সরকারি সিদ্ধান্তে গাজা উপত্যকার ক্ষেত্রে ‘দখল’ শব্দের ব্যবহার পরিকল্পিতভাবে এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর পরিবর্তে এখন ‘নিয়ন্ত্রণ’ শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে। আইন বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের প্রতি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যেসব দায়বদ্ধতা রয়েছে, তা এড়িয়ে যাওয়া।
উল্লেখ্য, গাজাবাসীর ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার জন্য বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের মুখে পড়েছে ইসরায়েল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান এই সংঘাতে ৬১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে উপত্যকাটির অধিকাংশ ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি