
গাজা উপত্যকায় গত আগস্ট মাসে অনাহারে ১২ শিশুসহ ১৮৫ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এক মাসে ক্ষুধাজনিত কারণে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি জানায়, জাতিসংঘ-সমর্থিত ক্ষুধা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা (আইপিসি) গত মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে গাজাকে দুর্ভিক্ষ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকে ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে সেখানে ৫৫ হাজার গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীর পাশাপাশি পাঁচ বছরের কম বয়সী ৪৩ হাজারের বেশি শিশু চরম অপুষ্টিতে ভুগছে। এছাড়া, ৬৭ শতাংশ গর্ভবতী নারী রক্তস্বল্পতার শিকার, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এদিকে, ক্ষুধাজনিত মৃত্যুর হার দ্রুত বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, অবিলম্বে জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা না পৌঁছালে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৬৩ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে পুরো ছিটমহলটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং তাদের অবরোধের কারণে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।
গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এছাড়া, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে।