বিতর্কিত ওয়াকফ সংশোধনী আইনের কয়েকটি ধারা স্থগিত ভারতের সুপ্রিম কোর্টের

ভারতের ওয়াকফ সংশোধনী আইন পুরোপুরি স্থগিত না করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে সর্বোচ্চ আদালত। তবে সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আদেশে বিতর্কিত ওয়াকফ সংশোধনীর নতুন আইনটির কয়েকটি ধারা আপাতত স্থগিত রেখেছে।

সংসদের দুই কক্ষে বিতর্কের পরে ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার এই সংশোধিত আইনটি পাশ হয় এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবছরেরই ৫ এপ্রিল তাতে সই করেন।

ওই আইনটি স্থগিত করার জন্য প্রায় একশোটি মামলা দায়ের হয়েছিল। ভারতের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই ও বিচারপতি এজি মাসিহর বেঞ্চে সবগুলো মামলা মিলিয়ে একটি মামলা হয়।

ওয়াকফ হিসাবে কোনও সম্পত্তি দান করতে হলে সংশোধিত আইনে অন্তত ৫ বছর ইসলাম ধর্ম পালনের যে ধারা হয়েছিল, তার ওপরে স্থগিতাদেশ দিয়েছে বেঞ্চ।

বিচারপতিরা বলেছেন, রাজ্য সরকারগুলো যখন সংশোধিত আইন অনুযায়ী রুল জারি করবে, তখনই এই প্রক্রিয়া নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া যেতে পরে।
কেন্দ্রীয় ওয়াকফ কাউন্সিলে সর্বোচ্চ চারজন এবং রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডগুলোতে সর্বোচ্চ তিন জন অমুসলিম সদস্য থাকতে পারবেন বলে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

সংশোধিত আইনটিতে রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডের প্রধান নির্বাহী হিসাবে অমুসলিম কোনও সদস্যকে নিয়োগ করা যেতে পারে বলে যে ধারা রয়েছে, সেই ধারাটি অবশ্য স্থগিত করে নেয় সুপ্রিম কোর্ট।

তবে সম্ভব হলে একজন মুসলিমকেই এই পদে নিয়োগ করার চেষ্টা করতে হবে বলেও জানিয়েছে আদালত।

এতদিন জেলাশাসক কোনও জমি বা সম্পত্তি জরিপ করে সেটি ওয়াকফের কি না, তা বলার অধিকারী ছিলেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, সেই অধিকার আপাতত জেলাশাসকদের হাতে দেওয়া হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *