
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি)-এ ২৬ জনকে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক ও বর্তমান ১১ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ১৩ জনের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ৭ ডিসেম্বর বিচার শুরুর আবেদন করে প্রসিকিউশন, শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, জেআইসি সেলে শতশত মানুষকে অবৈধভাবে আটক রেখে ভয়াবহ নির্যাতন করা হয়েছে। আব্দুল্লাহ হিল আমান আজমী ও মাইকেল চাকমাসহ ২৬ জন নির্যাতনের পর মুক্তি পান। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, সকল গুমের নির্দেশনা দিতেন শেখ হাসিনা এবং সেনা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করতেন তারিক আহমেদ সিদ্দিক।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামিদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন তাদের আইনজীবীরা।
মামলায় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা ও তারিক আহমেদ সিদ্দিক ছাড়াও ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক, পাঁচ পরিচালক এবং একজন সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল।
এ মামলায় বর্তমানে তিনজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন—ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য পলাতক আসামিরা হলেন—শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লে. জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, সাবেক ডিজি লে. জেনারেল তাবরেজ শামস চৌধুরী, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক, মেজর জেনারেল তৌহিদুল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ ও লে. কর্নেল (অব.) মখসুরুল হক।
এদিকে, জুলাই–আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় চাঁনখারপুলে ছয়জনকে হত্যার মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে আজ দ্বিতীয় দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হবে।