আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সংগঠন এই কর্মসূচি পালন করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ:  
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে সমাবেশে পরিণত হয়।

সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদী বলেন, “আওয়ামী লীগকে নিয়ে যদি নির্বাচন করা হয়, তবে বাংলাদেশে রক্তের যমুনা বয়ে যাবে। দুই হাজারের বেশি শহীদের রক্তের কসম, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে।”

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদও বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তাদের মুখপাত্র আশরেফা খাতুন বলেন, “যত দিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ না হবে, তত দিন আমরা রাস্তায় থাকব।”

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে নতুন মঞ্চ ঘোষণা:  
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সহসমন্বয়ক এবি জুবায়ের ও মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ “গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্ল্যাটফর্ম” নামে একটি নতুন মঞ্চের ঘোষণা দেন। তারা আজ শনিবার বিকেল ৫টায় গণ-ইফতার ও অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেন।

এবি জুবায়ের বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম কাজ ছিল জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার করা। কিন্তু তা হয়নি। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে গণভোট আয়োজন করা উচিত।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকার অন্যান্য স্থানে বিক্ষোভ: 
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহরির আগে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। শিক্ষার্থীরা বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৭৫ সাল থেকে বারবার জনগণের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। ২০২৪ সালের গণহত্যার বিচার করে দলটিকে নিষিদ্ধ করতে হবে।”

ঢাকা কলেজে শিক্ষার্থীরা জুমার নামাজের পর হলপাড়ায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। উত্তরাতেও একই দাবিতে মিছিল হয়।

৭২ ঘণ্টার মধ্যে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি:
চট্টগ্রাম নগরীর নিউমার্কেটে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ আয়োজিত সমাবেশে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়। এর আগে আন্দরকিল্লা শাহি জামে মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, “আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে কঠোর আন্দোলন হবে।”

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংগঠন আগামী দিনে আরও বড় কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *