
গাজা উপত্যকায় সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন আরব লিগের নেতারা। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ১৮ মার্চ থেকে উপকূলীয় এই ছিটমহলে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। ৩ দিনের হামলায় ৭১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৯শ’ এর বেশি আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
গাজায় ইসরায়েলি হামলার পরেরদিন ১৯ মার্চ মিশরের রাজধানী কায়রোয় আরব লিগের একটি জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এক বিবৃতিতে আরব লিগ জানিয়েছে, তারা সদস্য দেশগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা ধীরে ধীরে হ্রাস করার পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সক্রিয়ভাবে আহ্বান জানাবে এবং অর্থনৈতিক বয়কটকে উৎসাহিত করবে। কারণ ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর বাণিজ্য ও সামরিক লেনদেন অব্যাহত থাকলে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর আক্রমণের দায়ভার তাদেরও বহন করতে হবে।
বিবৃতিতে আরব সংহতি জোরদার করার এবং ফিলিস্তিনি অধিকার রক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
২০২০ সালে মার্কিন মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান এবং মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে আব্রাহাম চুক্তিতে সই করে। এর ফলে এই ৪টি আরব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। দেশগুলো ইসরায়েলের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কও স্থাপন করেছে।
উদাহরণস্বরূপ, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরায়েলের সঙ্গে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি চুক্তি সই করেছে। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই ধরনের চুক্তির সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। ২০২১ সালে আরব আমিরাতে একটি ইসরায়েলি দূতাবাস খোলা হয় এবং তখন থেকে শত শত ইসরায়েলি উপসাগরীয় দেশটিতে স্থানান্তরিত হয়েছে।
এদিকে গত সাড়ে চার বছরে মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বাণিজ্য, অস্ত্র ও শিক্ষা বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে ইসরায়েলি অস্ত্র কোম্পানি এলবিট সিস্টেমসও রয়েছে। ২০২১ সালে বাহরাইন এবং ইসরায়েলে সামরিক বাহিনী যৌথ সামরিক মহড়াও করেছিল।
সম্প্রতি পশ্চিম তীর এবং গাজায় এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ ফিলিস্তিনিরা বিশ্বাস করে, আরব রাষ্ট্রগুলো গাজার জনগণকে সাহায্য করার জন্য যথেষ্ট কিছু করছে না।
জনমত জরিপে আরও দেখা গেছে, ইসরায়েলের সঙ্গে আরবদের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ আরব দেশগুলোর জনগণ ভালোভাবে নেয়নি। ফিলিস্তিনিরা এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব এবং বর্বরতা দেখার পরেও এ ধরনের পদক্ষেপ পিঠে ছুরিকাঘাতের শামিল।
বুধবারের বৈঠকে, আরব দেশগুলো বলেছে, তারা তাদের গাজা উপত্যকা পুনর্গঠন পরিকল্পনার জন্য সদস্য দেশগুলোর ওপর রাজনৈতিক ও আর্থিক সহায়তার জন্য চাপ দেবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা দখলের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে লড়াই করার উপায় হিসাবে এই পরিকল্পনা পেশ করেছে মিশর।
সূত্র: দ্য নিউ আরব