আসাদ অনুগতদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর তুমুল লড়াই, নিহত ৪৮

সিরিয়ার উপকূলীয় শহর জাবলেতে নিরাপত্তা বাহিনী এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগত বন্দুকধারীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষে ৪৮ জন নিহত হয়েছেন। এই সংঘর্ষকে ইসলামিস্ট বিদ্রোহীদের দ্বারা আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর সবচেয়ে সহিংস সংঘর্ষ হিসেবে বর্ণনা করেছে একটি যুদ্ধ পর্যবেক্ষক সংস্থা।

গত বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) সংঘর্ষে আসাদের অনুগত বন্দুকধারীরা ১৬ জন নিরাপত্তা কর্মীকে হত্যা করেছে। অন্যদিকে, নিরাপত্তা বাহিনী আসাদের অনুগত ২৮ জন যোদ্ধাকে হত্যা করেছে।

লাতাকিয়া প্রদেশ সিরিয়ার আলাওয়াইট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি, যারা ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আসাদকে দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন করে আসছিল। গত ৮ ডিসেম্বর হায়াত তাহরির আল-শাম নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীদের কাছে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে, সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী সাবেক প্রেসিডেন্টের অনুগতদের তাদের ঘাঁটি থেকে উৎখাত করার জন্য অভিযান চালাচ্ছে।

লাতাকিয়ার নিরাপত্তা পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুস্তাফা কুনাইফাতি জানিয়েছেন, আসাদ-যুগের একজন কমান্ডারের অনুগত বন্দুকধারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের পর সরকারি কর্তৃপক্ষ একটি গ্রামে হেলিকপ্টার হামলা চালিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বন্দুকধারীরা জাবলে এলাকা এবং এর আশেপাশের গ্রামীণ এলাকায় নিরাপত্তা টহল এবং চেকপয়েন্টগুলোতে হামলা চালিয়েছিল।

কর্নেল মুস্তাফা রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা নিউজ এজেন্সিকে বলেছেন, ‘লাতাকিয়া গ্রামাঞ্চলে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যারা সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল, তারা যুদ্ধাপরাধী সুহাইল আল-হাসানের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যিনি সিরিয়ার জনগণের বিরুদ্ধে নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন।’

এক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, আসাদের অনুগত মিলিশিয়া বাহিনী জাবলেহের পার্বত্য উপকূলীয় অঞ্চলে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের প্রতিহত করার জন্য সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

আলাওয়াইট সম্প্রদায়ের নেতারা অভিযোগ করেছেন, হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের বাড়ি লক্ষ্য করে হেলিকপ্টার হামলা চালানো হয়েছে।

সিরিয়ায় কর্মরত একটি যুদ্ধ পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছে, সুহাইল আল-হাসানের জন্মস্থান বেইত আনারে নিরাপত্তা বাহিনী এক অস্ত্র ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযান চালালে স্থানীয়রা বাধা দেয়। এর ফলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষ বাধে।

‘দ্য টাইগার’ নামে পরিচিত সুহাইল আল-হাসান ২০১৫ সালে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে আসাদ সরকারের অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি সিরিয়ার বিশেষ বাহিনীর নেতৃত্ব দিতেন এবং প্রায়ই তাকে আসাদের ‘প্রিয় সৈনিক’ হিসেবে অভিহিত করা হতো।

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নিহতদের বেশিরভাগই বিদ্রোহীদের পূর্ববর্তী ঘাঁটি ইদলিব প্রদেশের বাসিন্দা। সংস্থাটি বলেছে, জাবলেহ শহর এবং এর আশেপাশের এলাকায় আসাদের অনুগত বন্দুকধারীদের হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১৬ সদস্য নিহত হওয়ার পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

সানা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, জাবলে এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা এবং এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *