ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন হামলায় নিহত ৩

লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী ইউএস সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ক্যারিবীয় সাগরে একটি নৌযানে প্রাণঘাতী অভিযান চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এতে তিনজন নিহত হয়েছেন।
সাউথকম হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র নৌযানে আঘাত হানার পর সেটি বিস্ফোরিত হয়ে আগুনে পুড়ে যায়।

আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে বলেছেন, এমন হামলা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শামিল— এমনকি লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিরা মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ থাকলেও।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবারের এই হত্যাকাণ্ডের আগে সোমবার পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে আরেকটি হামলা চালায় সাউথকম। সেখানে একটি নৌযানে হামলায় দুজন নিহত হন। সাউথকম জানায়, ওই হামলায় একজন জীবিত রয়েছেন। তবে ওই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা বা উদ্ধার ও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে ওই অঞ্চলে বিভিন্ন নৌযানে মার্কিন বাহিনীর একের পর এক প্রাণঘাতী বিমান হামলার ঘটনা চলছেই। গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর থেকে এসব হামলায় অন্তত ১৩০ জন নিহত হয়েছেন।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জাহাজডুবির পর বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের হত্যা করা হলে তা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের পর্যবেক্ষণ ও হিসাব অনুযায়ী, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় সাগরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০টি নৌযানের বিরুদ্ধে ৩৮টি হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে অন্তত ১৩৩ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিহত দুজনও অন্তর্ভুক্ত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, লাতিন আমেরিকার কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র একটি সশস্ত্র সংঘাতে জড়িত। যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের প্রবাহ রোধে এসব হামলাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে তিনি যৌক্তিকতা দিয়েছেন।

তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় হামলা চালানোর আইনগত অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই এবং মাদক পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদেরও আইনের অধীনে ন্যায্য বিচারের অধিকার রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *