গণছুটিতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীরা, সেবা বন্ধে ভোগান্তিতে গ্রাহক

চার দফা দাবিতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহস্রাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অনির্দিষ্টকালের জন্য গণছুটিতে গেছেন। এতে জরুরি সেবা, লাইন মেরামত, নতুন সংযোগ, বিলিংসহ সব কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। কর্মসূচির প্রথম দিন থেকেই সাধারণ গ্রাহকরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।

আন্দোলনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন সংস্কার, দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ, চাকরিতে বৈষম্য দূরীকরণ এবং হয়রানিমূলক সিদ্ধান্ত বন্ধের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।

যদিও একাধিকবার কমিটি গঠন ও আশ্বাস দেওয়া হলেও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় কোনো দাবিই বাস্তবায়ন করেনি। বরং আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অনেককে বদলি, চাকরিচ্যুতি ও বরখাস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

এরই প্রেক্ষিতে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও ২-এর প্রায় এক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী রোববার থেকে গণছুটির আবেদন জমা দিয়েছেন। কর্মসূচির ফলে গ্রাহকসেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দিনমজুররাও।

আন্দোলনকারী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা এক বছরের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছি। বহুবার আশ্বাস পেয়েও বাস্তবে কিছুই হয়নি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কাজে ফেরার প্রশ্নই আসে না। তবে জনভোগান্তি আমাদের উদ্দেশ্য নয়।

অন্য দিকে আন্দোলনের প্রভাবে দারুণ ক্ষতির মুখে পড়েছেন দিনমজুররাও। ওয়ার্কশপে দিনমজুর হিসেবে কাজ করা উত্তম কুমার বলেন, আমরা ১৭ জন দৈনিক হাজিরায় কাজ করি। অফিস বন্ধ থাকায় আয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সংসার চালানো এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।

সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রাহকরাও। আব্দুস সালাম নামে এক গ্রাহক বলেন, কোনো নোটিশ ছাড়াই আমার মিটার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অফিসে এসে দেখি সবাই ছুটিতে, কেউ কিছু বলতে পারছে না।

নতুন সংযোগের গ্রাহক আবদুল জলিল বলেছেন, আমি টাকা জমা দিয়েছি, কিন্তু অফিসে কেউ নেই। কখন সংযোগ হবে, কেউ জানে না। এভাবে চললে সমস্যার সমাধান নেই।

এ বিষয়ে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী হরিন্দ্র নাথ বর্মণ বলেন, কিছুটা জনভোগান্তি হয়েছে। তবে আমরা বিকল্প ব্যবস্থায় সেবা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। মন্ত্রণালয় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে। আশা করছি বিকালের মধ্যেই কোনো নির্দেশনা পাওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *