‘গাজায় ‘টানেল আবিষ্কার’ ছিল সাজানো নাটক

গাজা-মিশর সীমান্তবর্তী ফিলাডেলফি করিডোরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ টানেল আবিষ্কারের যে দাবি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী করেছিল, তা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘ক্যান’ এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর আবিষ্কৃত কথিত টানেলটি আসলে মাটির নিচে থাকা একটি অগভীর নর্দমা ছাড়া আর কিছুই নয়।

গত বছরের আগস্টে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) গাজা-মিশর সীমান্তের নিরস্ত্রীকৃত ওই অঞ্চলে একটি টানেলের ছবি প্রকাশ করে হইচই ফেলে দিয়েছিল। তবে ক্যান-এর সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়, সেখানে কখনোই কোনো টানেল ছিল না। যা ছিল, তা নিছকই একটি অগভীর নর্দমা।

ক্যান তাদের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেছে, ফিলাডেলফি করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেখানো এবং হামাসের সঙ্গে সম্ভাব্য বন্দি বিনিময় চুক্তি বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যেই ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হয়েছিল।

ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টও ক্যান-এর এই প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি কোনো টানেল ছিল না। বরং যুদ্ধবিরতি এবং বন্দি বিনিময় চুক্তি ঠেকানোর একটি অপচেষ্টা ছিল।’

গ্যালান্ট আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘কাঠামোটি মাত্র এক মিটার গভীর ছিল, কিন্তু এটিকে গভীর সুড়ঙ্গ হিসেবে জনসাধারণের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল। হামাসের সঙ্গে চুক্তি ঠেকাতে জনগণকে এভাবে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।’

এদিকে, ক্যান-এর এই বিস্ফোরক প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস জানিয়েছে, যেকোনো বন্দি বিনিময় চুক্তির আগে অবশ্যই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে এবং গাজা উপত্যকা থেকে সম্পূর্ণভাবে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারির যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি বাহিনী গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় পুনরায় ব্যাপক হামলা শুরু করে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৫১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের একটি বিশাল অংশই নারী ও শিশু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *