
আন্তর্জাতিক মুসলিম স্কলারদের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলার্স (আইইউএমএস) গাজার ফিলিস্তিনিদের রক্ষায় বিশ্ব মুসলিম ও আরব উম্মাহকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি বলছে, বিশ্ব গাজার ফিলিস্তিনিদের পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলেছে, তাই তাদের রক্ষার দায়িত্ব এখন মুসলিম দেশ ও মুসলিম উম্মাহর।
আইইউএমএসের মহাসচিব ড. আলি আল-সাল্লাবি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো ইসরায়েলের দখলদারিত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাই গাজার ফিলিস্তিনিদের বাঁচানোর দায়িত্ব এসে পড়েছে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি), আরব লিগ এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর ওপর।
গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রভাব জিসিসি দেশগুলোর ওপরও পড়ছে উল্লেখ করে ড. আল-সাল্লাবি বলেন, অত্যাচারিতদের সহায়তা করা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা। ইসলাম তার অনুসারীদের অত্যাচারিতদের পাশে দাঁড়াতে এবং বৈধ উপায়ে তাদের অধিকার রক্ষায় সাহায্য করতে বলে।
তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনিরা শুধু মুসলিমদের প্রথম কিবলা রক্ষা করছে না, তারা আরবদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ড. আল-সাল্লাবি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী গাজায় জীবনযাত্রার সব মৌলিক চাহিদা ধ্বংস করে দিয়েছে। স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, বাড়িঘর, হাসপাতাল, সরকারি প্রতিষ্ঠান, পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহেও বাধা দিচ্ছে। শিশুরা ক্ষুধা ও ঠান্ডায় মারা যাচ্ছে। এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখা যায়নি।
ড. আল-সাল্লাবি মিশরের আল-আজহার আল-শরিফসহ প্রভাবশালী ইসলামি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফিলিস্তিনিদের রক্ষায় সর্বোচ্চ ভূমিকা নিতে আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর অপরাধের প্রভাব সবার ওপর পড়বে। তাদের উচ্চাভিলাষের কোনো সীমা নেই এবং তাদের অপরাধ কেউ বাধা দিচ্ছে না।