
গাজা উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপের মধ্যে এখনও নতুন মৃতদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। ফলে ১৫ মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৬১ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার মিডিয়া অফিস (জিএমও)।
জিএমও মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহতদের হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করেছে। ওই তালিকা অনুযায়ী, ৬১ হাজার ১৮২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এছাড়া হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ৪৭০ দিন ধরে চলা এই যুদ্ধে অন্তত ২ হাজার ৯২টি ফিলিস্তিনি পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। এই পরিবারগুলোর কোনো সদস্যই আর বেঁচে নেই।
এছাড়া ইসরায়েলের সামরিক হামলায় ৪ হাজার ৮৮৯ টি ফিলিস্তিনি পরিবার ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। এই পরিবারগুলোর মাত্র একজন বা দুইজন সদস্য বর্তমানে জীবিত আছে।
গাজা যুদ্ধে ১২ হাজার ৩১৬ জন নারী নিহত হয়েছে। এর ফলে অগণিত শিশু তাদের মা এবং পুরুষরা তাদের স্ত্রী হারিয়েছে।
এদিকে ৩৮ হাজার ৪৯৫টি ফিলিস্তিনি শিশু এতিম হয়েছে। এই শিশুরা তাদের বাবা-মা উভয়ের একজনকে অথবা উভয়কেই হারিয়েছে। যুদ্ধবিরতি হলেও এই শিশুরা প্রচণ্ড মানসিক আঘাতের মধ্যে জীবনযাপন করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
১ বছরের বেশি সময় ধরে চলা গাজা যুদ্ধে নিহতদের বেশিরভাগই নারী এবং শিশু ছিল। জিএমও জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৭ হাজার ৮৬১টি শিশু ছিল। এদের মধ্যে ৮০৮ টি এক বছরের কম বয়সী শিশু ছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে হামাসের হামলায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হয়। একইদিন গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। নৃশংস এ যুদ্ধে অবরুদ্ধ এই ছিটমহলটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। অবশেষে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।