জুনে গাজায় ২০ ইসরায়েলি সেনা নিহত: চলতি বছরে সর্বোচ্চ

গাজা উপত্যকায় সদ্য সমাপ্ত জুন মাসটি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর জন্য একটি রক্তক্ষয়ী মাস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই এক মাসেই তাদের ২০ জন সেনা নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম ইয়েদিয়ত আহারোনোত জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে চলমান সংঘাতে এটিই ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গাজা ইসরায়েলের জন্য একটি দ্বিতীয় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। তবে জুন মাসেই এই উপত্যকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলো।

ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য সবচেয়ে বড় আঘাতটি আসে গত ২৪ জুন। এদিন গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে তীব্র লড়াইয়ের সময় তাদের ১৫ জন সেনা প্রাণ হারান। সর্বশেষ সেনা নিহতের ঘটনা ঘটে ২৯ জুন, রোববার। সেদিন গাজার উত্তরাঞ্চলে এক সংঘর্ষে ৬০১তম যুদ্ধ প্রকৌশল সেনাদলের একজন সদস্য নিহত হন।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি, পারমাণবিক স্থাপনা এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এতে ইরানের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হন।

এর জবাবে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) দিয়ে পাল্টা হামলা চালায়। এই হামলায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে দেশটির বিভিন্ন সামরিক ও গোয়েন্দা স্থাপনার ওপর আঘাত হানা হয়। ইরানের এই পাল্টা আক্রমণে ইসরায়েলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গত ২২ জুন এই সংঘাতে সরাসরি যুক্ত হয় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বোমারু বিমানগুলো ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় শক্তিশালী হামলা চালায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করলেও তার কোনো শক্ত প্রমাণ মেলেনি। বরং জানা গেছে, ইরান আগে থেকেই আঁচ করতে পেরে নিজেদের পারমাণবিক সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল।

অবশেষে, গত ২৪ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘১২ দিনের যুদ্ধ’ নামে পরিচিত এই সংঘাতের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *