জেরুজালেমের একটি নুড়িপাথরও ইসরায়েলকে দেওয়া হবে না

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তুরস্ক জেরুজালেমের একটি নুড়িপাথরও ইসরায়েলকে দেবে না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
শুক্রবার তুরস্কের বিমান চলাচল, মহাকাশ এবং প্রযুক্তি বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘টেকনোফেস্ট’-এ দেওয়া এক বক্তৃতায় এরদোয়ান বলেন, ‘তিনি (নেতানিয়াহু) আমাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছেন, কারণ আমরা তাকে সিলভান শিলালিপি দেইনি। এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের উত্তরাধিকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা এখন সিলভান শিলালিপির পেছনে ছুটছে। অথচ আমরা আপনাদেরকে জেরুজালেমের একটি নুড়িপাথরও দেবো না।’

উল্লেখ্য, সিলভান শিলালিপিটি ইস্তাম্বুল প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘরে সংরক্ষিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন হিব্রু শিলালিপি। ১৮৮২ সালে জেরুজালেম যখন অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল, তখন এটি ইস্তাম্বুলে নিয়ে আসা হয়।

এদিকে ইসরায়েল একাধিকবার তুরস্কের কাছ থেকে এই শিলালিপিটি ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করেছে। ১৯৯৮ সালে নেতানিয়াহু, ২০০৭ সালে জেরুজালেমের তৎকালীন মেয়র উরি লুপোলিয়ানস্কি এবং ২০২২ সালে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ এটি ফেরত দেওয়ার জন্য তুরস্ককে অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

সম্প্রতি নেতানিয়াহু এক বক্তৃতায় দাবি করেন, ১৯৯৮ সালে তিনি তৎকালীন তুর্কি প্রধানমন্ত্রী মেসুত ইলমাজের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে সিলভান শিলালিপি ফেরত চেয়েছিলেন। নেতানিয়াহুর ভাষ্যমতে, ‘আমি ইলমাজকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম, আমাদের জাদুঘরে হাজার হাজার অটোমান নিদর্শন রয়েছে। এগুলোর মধ্যে একটি বেছে নিন, বিনিময়ে সিলভান শিলালিপি আমাদের ফিরিয়ে দিন। তবে তখন ইস্তাম্বুলের মেয়র ছিলেন এরদোয়ান। তার কারণে আমার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।’

এর প্রতিক্রিয়ায় এরদোয়ান বলেন, ‘আমি সেসব খুনিদের উদ্দেশ্যে বলছি, যাদের হাতে ৬৫ হাজার নিরীহ গাজাবাসীর রক্ত ​​লেগে আছে। কুদস (জেরুজালেম) হলো মুসলিমসহ সমগ্র মানবতার সম্মান, মর্যাদা এবং গর্ব।’ তিনি আরও জানান, ১৯৬৭ সালের সীমানার মধ্যে পূর্ব কুদসকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তুরস্কের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *