
দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মুয়ান বিমানবন্দরে একটি যাত্রীবিমান জরুরি অবতরণ করার সময় অন্তত কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন। রোববার এ দুর্ঘটনা ঘটে।
উদ্ধারকারী দলের বরাতে সিএনএন’র তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৮৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, তবে বাকি যাত্রীরা নিহত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জেজু এয়ার ফ্লাইট ৭সি ২২১৬ বিমানটি ব্যাংকক থেকে ১৭৫ জন যাত্রী ও ৬ জন ক্রু নিয়ে আসছিল। এটি মুয়ান কাউন্টির বিমানবন্দরে রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার কিছু পরে (শনিবার রাত ৭টা ইটি) দুর্ঘটনাটি ঘটে।
কর্মকর্তারা জানান, এই দুর্ঘটনার কারণ ছিল ল্যান্ডিং গিয়ারের ত্রুটি।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখায় বিমানটি তার পেটের ওপর ভর করে দ্রুত গতিতে স্লাইড করে। একটি মাটির বাঁধে আঘাত করে এবং পরবর্তীতে আগুন ধরে যায়।
ফুটেজে দেখা যায়, রানওয়ে ধরে স্লাইডিং বিমানটির পেছন কিংবা সামনের ল্যান্ডিং গিয়ার কোনোভাবেই দৃশ্যমান ছিল না, এবং বিমানের পেছন থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল।
পরে, দমকলকর্মীদের বিমানটির আগুন নেভাতে পানি ছিটাতে দেখা যায়, এবং বিভিন্ন অংশ রানওয়ের ওপর ছড়িয়ে পড়ে।
উদ্ধারকারী দলের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৩৯ জন পুরুষ এবং ৪৬ জন মহিলা, দক্ষিণ জোল্লা ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে। দুইজন উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির একজন পুরুষ এবং একজন মহিলা ক্রু সদস্য।
দুর্ঘটনায় দুইজন থাই নাগরিকও ছিলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন কমিটির কর্মকর্তারা স্থানীয় সময় সকাল ১০:১০ (শনিবার রাত ৮:১০ ইটি) দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন এবং তদন্ত করছেন, ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
মুয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সকল ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, জানিয়েছে কোরিয়া এয়ারপোর্টস কর্পোরেশন।
দক্ষিণ কোরিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট চোই সাং-মোক, দুর্ঘটনায় জরুরি সেবা প্রদানকারী সকল উপকরণ ও কর্মীকে “সর্বোচ্চ” প্রস্তুতি নিয়ে কাজে নামানোর নির্দেশ দিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস রিলিজে জানানো হয়েছে।
এই ট্র্যাজেডি ঘটেছে চোই সাং-মোকের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার দুই দিন পর, যা দক্ষিণ কোরিয়ায় চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি নতুন অধ্যায়।