দেশে তৈরি জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম নির্ধারণ করবে সরকার: হাইকোর্ট

হাইকোর্ট সরকারের ১৯৯৩ সালে জারি করা ৭৩৯টি ওষুধের দাম নির্ধারণ সংক্রান্ত গেজেট পুনর্বহাল করেছেন। এর ফলে দেশের অধিকাংশ ওষুধের মূল্য নির্ধারণের এখতিয়ার আর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের হাতে নয়, থাকবে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে।

সোমবার (২৫ আগস্ট) বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) দায়ের করা রিটের শুনানি শেষে এ রায় দেন।

রায়ে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ওষুধ মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদের রায় বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রিটকারীর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, ১৯৮২ সালের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশের ১১ ধারায় সরকারকে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। তার ভিত্তিতে ১৯৯৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৭৩৯টি ওষুধের দাম নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করে।

কিন্তু ১৯৯৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারির এক সার্কুলারে সেই ক্ষমতা সীমিত করে মাত্র ১১৭টি ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সরকারের হাতে রাখা হয় এবং বাকি ওষুধের দাম নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়া হয় উৎপাদনকারীদের কাছে।

এই সার্কুলারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এইচআরপিবি ২০১৮ সালে জনস্বার্থে একটি রিট দায়ের করে। পরে হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চান কেন এ সার্কুলারকে অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। দীর্ঘ শুনানি শেষে সোমবার রায় ঘোষণা করা হয়।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ আদালতে যুক্তি দেন, জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম বৃদ্ধি মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সুতরাং দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সীমিত করা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করে।

রায়ে আদালত সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদের আলোকে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম সরকারকেই নির্ধারণ করার নির্দেশ দেন এবং তা গেজেট আকারে প্রকাশেরও নির্দেশ দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *