পবিত্র কাবাঘরের নতুন চাবিরক্ষক শায়খ আবদুল ওয়াহাব আল-শাইবি

পবিত্র কাবাঘরের ৭৮তম চাবিরক্ষক ও সিনিয়র তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শায়খ আবদুল ওয়াহাব আল-শাইবি। গত সোমবার (২৪ জুন) এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তার হাতে পবিত্র কাবাঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়। বাইতুল্লাহ শরিফ ও মসজিদে নববিভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল হারামাইন শরিফাইনে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

কাবার ৭৭তম চাবিরক্ষক ড. শায়খ সালেহ বিন জয়নুল আবেদিন আল-শাইবির ভাই শায়খ আবদুল ওয়াহাব। গত শুক্রবার (২১ জুন) ড. শায়খ সালেহ ইন্তেকাল করলে বংশের প্রবীণতম সদস্য হিসেবে শায়খ আবদুল ওয়াহাবকে এই মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। সৌদি আরবের রাজকীয় আদালত তার এ নিয়োগ চূড়ান্ত করে।

চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও অভিজাত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কাবার চাবির দায়িত্ব পেয়ে শায়খ আবদুল ওয়াহাব তার ওপর রাখা আস্থার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং পবিত্র কাবাঘরের ঐতিহ্য ও পবিত্রতা বজায় রাখার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

আগামী মহররমের ১ তারিখ কাবাঘরের নতুন গিলাফ (কিসওয়াহ) গ্রহণ ও পরিবর্তনের সময় পবিত্র কাবার দরজা খুলে দেওয়ার মাধ্যমে তার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন শুরু হবে। তিনি কাবা ঘর ধোয়া এবং বিদেশি অতিথিদের পরিদর্শনের সময় কাবার দরজা খুলে দেবেন।

শায়খ আবদুল ওয়াহাব মহানবী হযরত মোহাম্মদের (স.) মক্কা বিজয়কাল থেকে ৭৮তম এবং তার পূর্বপুরুষ কুসাই বিন কিলাবের যুগ থেকে ১১০তম চাবিরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বিখ্যাত সাহাবি উসমান ইবনে তালহার (রা.) বংশধর, যার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছিলেন, হে তালহার বংশধর! তোমরা এ চাবি গ্রহণ করো। তোমাদের কাছেই তা থাকবে। অত্যাচারী ছাড়া আর কেউ তা ছিনিয়ে নেবে না।

জাহেলি যুগ থেকেই কাবাঘরের চাবি বহনের মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্বটি ছিল শায়বা গোত্রের কাছে। তবে মুসলমানদের বিজয়ের পর সে দায়িত্ব শায়বা গোত্রের হাতে থাকবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। তবে মক্কা বিজয়ের দিন সে সন্দেহ দূর করে রাসুলুল্লাহ (স.) সে গোত্রেরই হযরত উসমান ইবনে তালহার (রা.) কাছে চাবি হস্তান্তর করে তাকে সম্মানিত করেন। এরপর থেকে তার বংশধরেরাই ওই চাবি সংরক্ষণ করে আসছেন।

এখন পর্যন্ত সে ধারার ব্যত্যয় হয়নি। বিভিন্ন সময়ে তাদের কাছ থেকে চাবি নিয়েই সৌদি বাদশাহ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ পবিত্র কাবাঘরে প্রবেশ করে থাকেন।