বিমান থেকে গাজায় খাবার ফেলতে শুরু করেছে জর্ডান ও আমিরাত

ইসরায়েল ১০ ঘণ্টার জন্য সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পর গাজা উপত্যকায় বিমান থেকে খাদ্য সহায়তা ফেলা শুরু করেছে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই পদক্ষেপ এসেছে এমন সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো গাজায় অনাহার ও অপুষ্টির বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

রোববার (২৭ জুলাই) জর্ডানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত যৌথভাবে গাজায় বিমান থেকে ২৫ টন খাদ্য ও মানবিক সহায়তা সরবরাহ করেছে।

এই কার্যক্রমে অংশ নেয় জর্ডানের দুটি সি-১৩০ মডেলের বিমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বিমান। গাজার বিভিন্ন স্থানে এসব ত্রাণ সামগ্রী ফেলা হচ্ছে।

জর্ডানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরও জানিয়েছে, গাজায় চলমান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটি আকাশপথে ১২৭ বার ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর মতে, বিমান থেকে ফেলা এসব ত্রাণ গাজার চলমান মানবিক সংকট মোকাবিলার জন্য মোটেও যথেষ্ট নয়।

বিবিসির সংবাদদাতা জো ইনউড জানিয়েছেন, গাজার প্রায় ২০ লাখ মানুষের জন্য মাত্র একবেলার খাবার নিশ্চিত করতেও অন্তত ১৬০টি বিমানের প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ বর্তমান আকাশপথে ত্রাণ ফেলার প্রচেষ্টা সংকট মোকাবিলায় একেবারেই অপর্যাপ্ত।

হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধের মধ্যে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩৩ জন অপুষ্টিতে মৃত্যুবরণ করেছেন।

এমন ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ও মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে রোববার থেকে ইসরায়েল গাজায় ১০ ঘণ্টার জন্য ‘কৌশলগত বিরতি’ ঘোষণা করে। প্রতিদিন স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আল-মাওয়াসি, দেইর আল-বালাহ ও গাজা সিটির নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এ বিরতি কার্যকর থাকবে। উদ্দেশ্য ছিল—ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা।

তবে এই বিরতির ঘোষণার মধ্যেও রোববার ভোর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ১৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *