
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছয়টি নির্বাচনী আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে আজ শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এক নসিরনগর আসন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া দুই সরাইল আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুটি ইউনিয়ন আসন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া তিন সদর ও বিজয়নগর আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই বাছাই সম্পন্ন করা হয়।
এই তিনটি আসনে মোট ৩৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই করা হয়। যাচাই শেষে ভোটার তালিকায় এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ছয়জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া এক নসিরনগর আসনের নজরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া তিন সদর বিজয়নগর আসনের আরিফুর রহমান, নূরে আলম সিদ্দিকী, উমর ইউসুফ খান, কাজী জাহাঙ্গীর।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া দুই সরাইল আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুটি ইউনিয়ন আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়া ১১ জন প্রার্থীর সবার মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
যাচাই বাছাইয়ে এই তিনটি আসনে বিএনপি, জামায়াত ও জোট প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রে কোনো ধরনের জটিলতা না থাকায় সেগুলো বৈধ ঘোষণা করা হয়। বৈধ হওয়া উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক, জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এবং সদ্য বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
আজ ৩ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া চার কসবা আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাঁচ নবীনগর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছয় বাঞ্ছারামপুর আসনের ৩৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
মনোনয়ন যাচাই বাছাইকে ঘিরে প্রার্থী ও তাঁদের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। এ সময় প্রার্থীরা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে।
কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া তিন আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, দীর্ঘদিন পর একটি সুন্দর পরিবেশে নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে আমাদের প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপি গণমানুষের দল। আমরা সব সময় জনগণের সঙ্গে ছিলাম এবং জনগণের রায় নিয়েই বিএনপি সরকার গঠন করবে।
জেলা প্রশাসক শারমীন জাহান আক্তার জানান, যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তাঁরা আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন।