
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় দ্বিতীয় ‘Building Bridges Between Islamic Schools of Thought’ সম্মেলনে বিশ্বব্যাপী মুসলিম ঐক্যের জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। বাদশাহ সালমানের পৃষ্ঠপোষকতায় বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) শুরু হওয়া এই সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশের মুসলিম নেতারা অংশ নিয়েছেন।
‘একটি কার্যকর ইসলামিক জোটের দিকে যাত্রা’ প্রতিপাদ্যে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ আয়োজিত সম্মেলনের প্রথম দিনে ফিলিস্তিন, সুদান ও সিরিয়ার পরিস্থিতি এবং বিশ্বজুড়ে মুসলিম সংখ্যালঘুদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। সম্মেলনে বর্ষীয়ান মুফতি, স্কলার, বুদ্ধিজীবী এবং বিভিন্ন মতাদর্শ ও সম্প্রদায়ের ইসলামিক কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আব্দুলআজিজ আল-আশেখ উদ্বোধনী বক্তব্যে মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠায় আলেমদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘মুসলিমদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং তাদের ঐক্য সুসংহত করার জন্য আমাদের সম্পর্ক সুদৃঢ়, পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জোরদার করা অপরিহার্য। অনিশ্চয়তা ও বিতর্কের এই সময়ে, জ্ঞানের আলোই আমাদের সঠিক পথ দেখাবে। আমাদের উচিত চরমপন্থা, গোষ্ঠীবাদ ও বিভ্রান্তিকর চিন্তাধারা পরিহার করে ইসলামের মূলনীতি অনুসরণ করা।’
গ্র্যান্ড মুফতি আরও বলেন, সৌদি আরব সর্বদাই মুসলিম ঐক্য, সংহতি ও সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে এবং বিভিন্ন মতাবলম্বীদের একত্রিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের প্রধান মোহাম্মদ বিন আব্দুলকরিম আল-ইসা বলেন, এই সম্মেলন গত রমজানে অনুষ্ঠিত প্রথম সম্মেলনের ধারাবাহিকতা। তিনি বলেন, মতভিন্নতা ও বৈচিত্র্য স্বাভাবিক, তবে সেগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হবে। সচেতনতা ও মহৎ উদ্দেশ্য থাকলে বৈচিত্র্য একটি সঠিক পথে পরিচালিত হয়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, নেতিবাচক ধর্মীয় বিতর্ক সবসময়ই মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ক্ষতিকর। প্রকৃত ঐক্য, সহাবস্থান ও সংহতির জন্য সম্পূর্ণ সম্মতির প্রয়োজন নেই, বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শ্রদ্ধা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ, তবে এখন আমাদের বাস্তবায়ন ও গঠনমূলক পদক্ষেপের দিকে এগোতে হবে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে ‘বিল্ডিং ব্রিজেস’ ডকুমেন্টের ভিত্তিতে বাস্তবায়নমূলক উদ্যোগ শুরু হবে, যা ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য দেশগুলোর অনুমোদন পেয়েছে।