
গাজা উপত্যকায় গত মে মাস থেকে ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে অন্তত দেড় হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উপমুখপাত্র ফারহান হক সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ফারহান হক বলেন, ‘জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়কারী অফিসের তথ্যমতে, ত্রাণবাহী গাড়িবহরের পথ এবং ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে খাবারের খোঁজে আসা বহু মানুষ হতাহত হচ্ছেন। আমরা জানতে পেরেছি, মে মাস থেকে এ ধরনের ঘটনায় প্রায় দেড় হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।’
তিনি আরও জানান, রোববার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একজন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য ত্রাণ কেন্দ্রগুলো এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। খাদ্যের সন্ধানে এসব কেন্দ্রে এসে অনেকেই গুলিবিদ্ধ হচ্ছেন। ২৭ মে থেকে ইসরায়েল-সমর্থিত মার্কিন প্রতিষ্ঠান গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) উপত্যকায় ত্রাণ বিতরণের কাজ করছে।
ফারহান হক উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ তার মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের জীবন রক্ষা করলেও গাজার ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদে আন্তর্জাতিক ঐক্যের অভাব সংস্থাটির কার্যকারিতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এদিকে, গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২৭ জুলাই থেকে ইসরায়েল মাত্র ৬৭৪টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে, যেখানে এই অবরুদ্ধ ভূখণ্ডে দৈনিক ন্যূনতম ৬০০ ট্রাক ত্রাণের চাহিদা রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রোববার গাজায় প্রবেশ করা ৮০টি ট্রাকের বেশিরভাগই লুট হয়ে গেছে। ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে গাজায় বিশৃঙ্খলা ও দুর্ভিক্ষের পরিবেশ তৈরি করছে। তারা ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ দুর্বল করতে ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতির আন্তর্জাতিক আহ্বান উপেক্ষা করে ইসরায়েলি বাহিনী গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় নির্বিচারে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬১ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই হামলায় প্রায় পুরো উপত্যকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং অঞ্চলটি দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি