রাসুল (সা.)-এর অন্তিম সময়ের সৌভাগ্যবান খাদেম ফজল ইবনে আব্বাস (রা.)

নবীজি (সা.)-এর আত্মীয়দের মধ্য থেকে একজন ফজল ইবনে আব্বাস (রা.)। তাঁর বাবার নাম আব্বাস। মায়ের নাম লুবাবা বিনতে হারিছ। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর (পাঁচ বছর) বড়। তিনি তাঁর বাবার বড় ছেলে। তাঁর নামেই তাঁর বাবার উপনাম আবুল ফজল, আর তাঁর মায়ের উপনাম উম্মুল ফজল হয়। রাসুল (সা.)-এর চাচাতো ভাই; আবার বৈবাহিক সূত্রে ভায়রা-ছেলে। কারণ, তাঁর মা উমমুল মুমিনীন মাইমুনা (রা.)-এর আপন বোন।

ইসলামগ্রহণ ও হিজরত : তিনি বদর যুদ্ধের পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেন। মক্কাবিজয়ের কিছু দিন পূর্বে মা-বাবা ও ভাই আব্দুল্লাহ (রা.)সহ মদিনায় হিজরত করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের ৮ বছর। (আসহাবে রাসুলের জীবনকথা : ২/১৭৯পৃ.)

রাসুল (সা.)-এর সাহচর্যে : মদিনায় হিজরতের পর সর্বপ্রথম মক্কাবিজয়-অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। এরপর হুনাইন যুদ্ধেও যোগদান করেন। সে যুদ্ধে মুসলমানরা যখন সাময়িক বিপর্যয়ের কারণে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়, তখন তিনি রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে ময়দানে অটল থাকেন। বিদায় হজ্জে মুজদালিফা থেকে মিনা যাওয়ার সময় রাসুল (সা.) তাঁকে নিজ বাহনের পেছনে বসান। তিনি ছিলেন খুব সুন্দর ও আকর্ষণীয়। (আত-ত্বাবাকাতুল কুবরা : ৪/৪০পৃ., ক্র.৩৫১, সহিহ মুসলিম : ১/৩৯৯পৃ., মিশকাত [আসমাউর রিজাল] ৬১২পৃ.)

রাসুল (সা.)-এর অন্তিম সময়ে তাঁর খেদমতে অংশগ্রহণের সৌভাগ্য অর্জন করেন। রাসুল (সা.) মাইমুনা (রা.)-এর ঘরে অসুস্থ হয়ে পড়লে, সকল স্ত্রী থেকে অনুমতি নিয়ে আয়েশা (রা.)-এর ঘরে থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তখন তিনি দু’জনের কাঁধে ভর দিয়ে আয়েশা (রা.)-এর ঘরে যান। সে-দু’জনের একজন হলেন ফজল (রা.) ও অপরজন আলী (রা.)। (মুসলিম শরীফ : ১/১৭৮পৃ.)

ইন্তেকালের পর রাসুল (সা.)-এর গোসলদানের সময় ফজল ইবনে আব্বাস (রা.) পানি ঢেলে দেওয়ার কাজে অংশগ্রহণ করেন।

হাদিস : ফজল (রা.) থেকে ২৪টি হাদিস বর্ণিত আছে। ইবনে আব্বাস (রা.) ও আবু হুরাইরা (রা.)-এর মতো বিশিষ্ট সাহাবিরাও তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। (আল-আ’লাম [জিরিকলি] ৫/১৪৯পৃ.; আল-ইসাবাহ : ৫/২৮৭পৃ., ক্র.৭০১৮)
ইন্তেকাল : ফজল ইবনে আব্বাস (রা.)-এর ইন্তেকালের সন/তারিখ নিয়ে যথেষ্ট মতভেদ রয়েছে। মুহাম্মদ ইবনে সাদ, যুবাইর ইবনে বাক্কার, আবুহাতিম ও ইবনে রাকি (রহ.)-এর বর্ণনামতে (উমার রা. এর খেলাফতামলে ১৮ হিজরি সনে) আমওয়াসের মহামারিতে তিনি ইন্তেকাল করেন। এটাই বিশুদ্ধ মত। তখন তাঁর বয়স ছিল ২১ (অথবা ২৩) বছর। তবে অন্য এক বর্ণনামতে ইয়ারমুকের যুদ্ধে (১৫হিজরি সনের রজব মাসে শাহাদাতবরণ করেন। ১৩ হিজরি সনে আবু বকর (রা.)-এর খেলাফতামলে ইন্তেকালের একটি মতও রয়েছে। (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া : ৭/৯পৃ., আল-ইসতি‘আব : ৩/১২৬৯—১২৭০পৃ., মিশকাত [আসমাউর রিজাল] ৬১২পৃ.)

ফজল ইবনে আব্বাস (রা.) কোনো ছেলে রেখে যাননি। শুধু উম্মেকুলছূম নামে এক মেয়ে রেখে যান, যাকে প্রথমে বিয়ে করেন আলী (রা.)-এর ছেলে হাসান (রা.), পরবর্তীতে আবু মূসা আশআরি (রা.)। (আল-ইসতিআব : ৩/১২৭০পৃ., উসদুল গাবা : ৪/৬৬পৃ.)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *