
ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে হিজবুল্লাহর একজন সিনিয়র কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তার নাম মোহাম্মদ নিমাহ নাসের। বুধবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন তিনি। প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রকেটের ব্যারেজ নিক্ষেপ করেছে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা। খবর আল জাজিরা ও বিবিসির।
মোহাম্মদ নিমাহ নাসের হলেন হিজবুল্লাহর সর্বশেষ সিনিয়র সদস্য যাকে বিগত ৯ মাসের সহিংসতার মধ্যে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইসরায়েল। আর এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে লেবানন-ইসরায়েলের সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
হিজবুল্লাহ নিশ্চিত করেছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় তাদের একজন সিনিয়র কমান্ডার দক্ষিণ লেবাননে নিহত হয়েছেন। নাসের দক্ষিণ-পশ্চিম লেবানন সীমান্তে সক্রীয় হিজবুল্লাহর আজিজ ইউনিটের কমান্ডার ছিলেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অভিযোগ, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর এই কমান্ডার দক্ষিণ-পশ্চিম লেবানন থেকে ইসরায়েলি সীমান্তের ভেতরে রকেট নিক্ষেপ এবং ভয়ানক সন্ত্রাসী হামলার নির্দেশ দেওয়ার জন্য জন্য দায়ী।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, নিমাহ নাসের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থানে ১০০টি রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তারা। যদিও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র খোলা জায়গায় পড়ে এবং তা আগুনের সূত্রপাত করলেও কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। ওই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সীমান্তে প্রায় প্রতিদিনই গুলি বিনিময় করছে ইসরায়েল-লেবানন।
হামাসের সমর্থনে লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলা চালাচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি লেবানন সীমান্তে ঢুকে বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে এখন পর্যন্ত ৫০০ জনেরও বেশি লোক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের অধিকাংশই হিজবুল্লাহ যোদ্ধা। পাল্টা ইসরায়েলে নিহত হয়েছে মাত্র ২৫ জন, যাদের বেশিরভাগই ইসরায়েলি সৈন্য। এছাড়া সীমান্তের উভয় পাশের কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হলেও জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারির কারণে সেই উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়েছিল। তবে নতুন করে হিজবুল্লাহ কমান্ডার নিহত হওয়ায়, ফের যুদ্ধংদেহি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে।