
গণহত্যা ও ফ্যাসিবাদে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও বিচার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (৯ জুলাই) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবিসির একটি প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে মির্জা ফখরুল বলেন, “যে দল ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকবে, তাদের প্রতিটি ব্যক্তির বিচার হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শেখ হাসিনার। তার বিচার শুরু হয়েছে এবং যারা গণহত্যা ও ফ্যাসিবাদী আক্রমণের সঙ্গে জড়িত, তাদেরও বিচার হবে বলে আশা করি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা মনে করি, আওয়ামী লীগকেও দলগতভাবে আইনের আওতায় এনে বিচার করা উচিত।”
বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, আওয়ামী লীগের নির্যাতন ও নিপীড়নের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী বিএনপি। ব্যক্তিগতভাবে তিনি ১১২টি মামলার আসামি এবং ১৩ বার কারাবরণ করেছেন বলেও জানান।
নির্বাচন ও সংস্কার নিয়ে ফখরুল বলেন, “সংস্কারের সঙ্গে নির্বাচনের কোনো বিরোধ নেই। বরং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্যই আমরা সংস্কারের দাবি জানিয়েছি। জনগণের সম্পর্ক আছে এমন নির্বাচিত সরকার দরকার।”
সকলে মিলে দেশকে ‘সঠিক ট্র্যাকে’ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব হচ্ছে দেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা। যত দ্রুত সম্ভব তা করাই মঙ্গল।”
পরে মির্জা ফখরুল নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি থাকা বিএনপির উপদেষ্টা ডা. আব্দুল কদ্দুস ও অধ্যাপক ডা. সিরাজউদ্দিন এবং আয়শা মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বরেণ্য লালন সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভিনকে দেখতে যান।
ফরিদা পারভিনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তিনি লালন সংগীতের অদ্বিতীয় শিল্পী। তার চিকিৎসার জন্য দ্রুত একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন এবং প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া দরকার। প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে আহ্বান জানাই।”