
নড়াইলে সুদের জালে ফাঁসিয়ে প্রতিবেশী গৃহবধূকে দিনের পর দিন ধর্ষণের প্রতিশোধ নিতে ভুক্তভোগীর স্বামী গোপনাঙ্গ ও গলা কেটে হত্যা করে সুদে মহাজন আকবর ফকিরকে। হত্যাকাণ্ডের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের জালে আটক অভিযুক্ত বাবু সরদারকে সোমবার (২৯) সেপ্টেম্বর দুপুরে আদালতে তোলা হলে আসামি সেখানে আকবর ফকির হত্যার দায় স্বীকার করেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ হাসানের আদালতে আসামি নিজ জবানবন্দীতে এ দায় স্বীকার করেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ১০ হাজার টাকা সুদের দেনায় ফাঁসিয়ে নড়াইল সদরের শড়াতলা গ্রামের সুদে মহাজন আকবর ফকির তার হতদরিদ্র প্রতিবেশী চাতাল শ্রমিক বাবু সরদারের পরিবারকে জিম্মি করে বাবুর স্ত্রীকে দীর্ঘদিন যাবত ধর্ষণ করে আসছিলো। দেনাগ্রস্ত বাবু সরদার সবকিছু জেনে নীরবে সহ্য করলেও মনে মনে আকবর ফকিরকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে আকবর ফকিরকে কৌশলে শড়াতলা গ্রামের পার্শ্ববর্তী বুড়িখালী গ্রামের নির্জন বিলপাড়ে ডেকে নিয়ে কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনা নাশক খাইয়ে অচেতন করে হাত-পা বেঁধে গোপনাঙ্গ ও গলা কেটে হত্যা করে।
এ ঘটনার পর হত্যা রহস্য উদঘাটনে পুলিশ মাঠে নেমে বাবু সরদারকে আটক করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবু পুলিশের নিকট হত্যার দায় স্বীকার করলে সোমবার (২৯) সেপ্টেম্বর দুপুরে তাকে আদালতে তোলা হয়। সেখানেও আসামি ১৬৪ ধারায় আকবর ফকির হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দী দেয়। এ দিন বিকালে পুলিশ সুপারের সম্মেলনে কক্ষে এ ব্যাপারে প্রেস ব্রিফিং এর আয়োজন করা হয়। সেখানে পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম ছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই আলম সিদ্দিকী, পুলিশের বিশেষ শাথার ইনচার্য মীর শরিফুল হক, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাজেদুল ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।