স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণ: যুবদল কর্মীসহ অভিযুক্ত ৩

ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নে নুরুল করিম বাবলু নামে একজনকে আটকে রেখে তার স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে যুবদল কর্মী কামরুল ইসলামসহ আরও ২ স্থানীয় যুবকের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দুপুরে ফেনী মডেল থানায় ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ দিলে বিষয়টি সামনে আসে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে উপজেলার মাথিয়ারা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।

অভিযুক্তরা হচ্ছে মাথিয়ারা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে কামরুল ইসলাম (৩৮), জয়নাল আবেদীনের ছেলে মহিম (৩৫) ও রকি (২২)।
থানায় অভিযোগে ভুক্তভোগী নারী জানান, তার স্বামী নুরুল করিম বাবলু রিক্সা চালিয়ে সংসার চালান। কয়েক মাস আগে থেকে স্থানীয় বখাটেরা তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৮টার দিকে রকি তার স্বামীকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। গভীর রাতে বাবলুর অবস্থা খারাপ বলে তাকেও ডেকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তারা কলোনীর পাশে একটি নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ে তার কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে বাবলুকে মারধর করে মাদক দিয়ে পুলিশে দেয়ার ভয় দেখায়। এক পর্যায়ে কামরুল, মহিন ও রকি ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বাবলু জানান, রাতভর তারা আমাকে আটকে রেখে মারধর করে। সকালে তাদের থেকে ছাড়া পেয়ে বাসায় আসলে আমার স্ত্রীর সাথে যা হয়েছে তা জানতে পারি। আমি এর বিচার চাই।

প্রধান অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম নিজেকে যুবদল কর্মী দাবি করে পুরো ঘটনাটি রাজনৈতিক ভাবে সাজানো মিথ্যাচার বলে দাবী করেছেন।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের ভিডিওতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দেলু চেয়ারম্যানের ভাতিজা ও তার সহযোগীদের সিসি টিভিতে দেখা যাচ্ছে। তাদেরকে অভিযুক্ত না করে ষড়যন্ত্র করে আমাকে অভিযুক্ত করে হয়রানী করা হচ্ছে।

ফেনী জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নঈম উল্লাহ চৌধুরী বলেন, পাঁচগাছিয়ার মাথিয়ারায় কামরুল নামে যুবদলের কোন কর্মী নেই। তারপরও বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সামসুজ্জামান জানান, পালাক্রমে ধর্ষন ও নির্যাতনের বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। ভুক্তভুগীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *