ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলো আর্মেনিয়া

রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে আর্মেনিয়া। বিষয়টি নিশ্চিত করে শুক্রবার (২১ জুন) ইয়েরেভান জানায়, আন্তর্জাতিক আইনের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করেই তারা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এদিকে এই ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই ইসরায়েলে নিযুক্ত আর্মেনিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তেল আবিব। খবর এএফপি, জেরুজালেম পোস্ট।

শুক্রবার সকালে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি আর্মেনিয়া অবিলম্বে গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই পণবন্দীদের মুক্তিরও আহ্বান জানিয়েছে।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সঙ্গে আর্মেনিয়া অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। আজারবাইজানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নের এ ঘটনা ঘটছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।বেসামরিক জনগণের প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা উল্লেখ করে আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন, জাতির সমতা, সার্বভৌমত্ব ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করেই তারা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

ওই ঘোষণায় আর্মেনিয়া নিজেদেরকে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সত্যিকারে আগ্রহী বলেও উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে বেসামরিকদের জিম্মি করার জন্য হামাসের নিন্দা করে জিম্মিদের মুক্ত করতে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

ইসরায়েল ও হামাসের চলমান যুদ্ধের মধ্যে বেশ কিছু দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। সর্বশেষ এ তালিকায় যুক্ত হলো আর্মেনিয়া। তবে দেশটির এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েল। স্বীকৃতি দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের দেশে নিযুক্ত আর্মেনিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করে।

ইসরায়েলের সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, গত ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণে এক হাজার ১৯৪ জন ইসরায়েলি নাগরিক নিহত হয়। পাশাপাশি হামাস ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়। বন্দি বিনিময় ও কিছু জিম্মি নিহত হওয়ার পরও সেখানে এখন পর্যন্ত ১১৬ জন জিম্মি রয়ে গেছে।