
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলায় আরও ৪৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, এ নিয়ে গত বছরের অক্টোবর থেকে চলা এ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৫০০ জনে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত অন্তত এক লাখ ৮ হাজার ৯০ জন আহত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৪৮ জন নিহত এবং ৫২ জন আহত হয়েছেন। বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মতে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সত্ত্বেও ইসরায়েল গাজায় আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। ইসরায়েলের হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ অসংখ্য ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে।
গাজায় ইসরায়েলি হামলার কারণে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। জাতিসংঘের মতে, এ আগ্রাসনে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
খাদ্য, পানি ও ওষুধের তীব্র সংকটে পড়া গাজার বাসিন্দারা মারাত্মক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া অবকাঠামোর ৬০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইসরায়েলের হামলার বর্বরতায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইতোমধ্যে ইসরায়েলকে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকেই গাজায় ইসরায়েল এই আগ্রাসন শুরু করে।
হয়েছে।