গাজায় ৪২ হাজারের বেশি মানুষ পঙ্গু, প্রতি চারজনে একজন শিশু: ডব্লিউএইচও

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এক নতুন প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৪২ হাজারের বেশি মানুষ চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছে। গুরুতর আহত এসব মানুষের প্রতি চারজনের একজন শিশু। সংস্থাটি বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে পাঁচ হাজার মানুষ তাদের হাত বা পা হারিয়েছেন এবং অনেকেই তাৎক্ষণিক অস্ত্রোপচারের অভাবে অঙ্গ হারাতে বাধ্য হয়েছেন।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২২ হাজারের বেশি মানুষ হাত-পায়ে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন, দুই হাজারের বেশি মানুষের মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক হাজার ৩০০ জনের মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতজনিত জটিলতা রয়েছে। এছাড়া, তিন হাজার ৩০০ জনের বেশি মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন এবং মুখমণ্ডল ও চোখের জটিল ক্ষত অনেকের জন্য শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি সামাজিক সংকটও তৈরি করছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন প্রায় ভেঙে পড়েছে। সেখানে ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১৪টি আংশিকভাবে চালু আছে এবং যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় মাত্র এক-তৃতীয়াংশ পুনর্বাসন সেবা সচল রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, গাজায় হাজার হাজার অঙ্গহীন মানুষের জন্য কৃত্রিম অঙ্গ প্রস্তুতকারী বিশেষজ্ঞ রয়েছেন মাত্র আটজন। সংস্থাটি আরও জানায়, যুদ্ধের কারণে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তত ৪২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিহত হওয়ায় গাজার পুনর্বাসন কর্মীবাহিনী প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে।

ফিলিস্তিনি অঞ্চলে ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি রিচার্ড পিপারকোর্ন জানান, শুধু যুদ্ধাহতদের জন্যই নয়, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ও প্রতিবন্ধীদের জন্যও পুনর্বাসন অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, গাজায় মানুষ আজ চিকিৎসা তো দূরের কথা, নিরাপদ আশ্রয়েরও অধিকার হারিয়েছে। বাস্তুচ্যুতি, অপুষ্টি এবং মানসিক সহায়তার অভাব এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।’

জাতিসংঘের এই সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ প্রবেশের অবাধ সুযোগ এবং স্বাস্থ্যব্যবব্যবস্থার সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে। প্রতিবেদনের শেষে বলা হয়েছে, ‘গাজার মানুষ শান্তি, স্বাস্থ্যের অধিকার এবং চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ার যোগ্য।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *