
আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে দারুল উলুম দেওবন্দ পরিদর্শন করেছেন। আজ শনিবার (১১ অক্টোবর) সকালে সেখানে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
সেখানে তিনি হাদিসের পাঠ গ্রহণ করেন এবং তাকে সম্মাননা পাগড়ি পরিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানকার শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
দেওবন্দ মাদরাসায় উষ্ণ অভ্যর্থনা ও মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখে অভিভূত হয়ে পড়েন আমির খান মুত্তাকি। তিনি স্থানীয় উলামা ও জনসাধারণকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি ভারত-আফগানিস্তান সম্পর্কের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর সঙ্গে আলাপকালে আমির খান মুত্তাকি বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের এই সফর খুবই ভালো হয়েছে। কেবল দারুল উলুমের মানুষই নয়, এলাকার সব মানুষ এখানে এসেছেন। তারা আমাকে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন তার জন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এই উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য আমি দেওবন্দের উলামা এবং এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ। ভারত-আফগানিস্তান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল বলে মনে হচ্ছে।’
এদিকে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি ও দারুল দেওবন্দের প্রধান মাওলানা আরশাদ মাদানি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে আমি তাকে বলেছি, আপনার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কেবল একাডেমিক নয়। আপনারা ভারতের স্বাধীনতায় অবদান রেখেছেন। আমাদের পূর্বপুরুষরা ভারতের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে আফগানিস্তানের ভূমি বেছে নিয়েছিলেন স্বাধীনতার জন্য। আপনারা আমেরিকা ও রাশিয়ার মতো শক্তিকে পরাজিত করেছেন। আমরা যখন ব্রিটেনকে পরাজিত করেছিলাম তখন আপনারা আমাদের কাছ থেকে শিখেছিলেন কিভাবে তা করতে হয়। এখন তিনি তার জ্ঞানের মাতৃভূমি পরিদর্শনে এসেছেন।’
আরশাদ মাদানি আরও বলেন, ‘ভারত ও আফগানিস্তানের সম্পর্কের ব্যাপারে আমির খান মুত্তাকি বলেছেন যে এই সময়ের মধ্যে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। তিনি জানান, আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার কথোপকথনের সময় এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে যে ভারতের মুসলমানদের এবং দারুল উলুমের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।’
এসময় মাওলানা আরশাদ মাদানি বলেন, ‘আমাদের আলাপচারিতায় কোনো রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি।
কথোপকথন কেবল ধর্মীয় বিষয়গুলোর সীমাবদ্ধ ছিলো। আগে ভারতের অভিযোগ ছিলো যে আফগানিস্তান ভারতে সন্ত্রাসী পাঠিয়েছে। এখন এই বৈঠকের পর নিশ্চিত হয়ে গেছে যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য আফগানিস্তান থেকে কোনো সাহায্য ভারতে পৌঁছায় না।’
দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে গত ৯ অক্টোবর ভারত সফরে গিয়েছেন আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে তালেবানের ক্ষমতায় আসার পর তালেবানের কোনো শীর্ষ নেতার এটাই প্রথম ভারত সফর। এরইমধ্যে সফরের দ্বিতীয় দিন গতকাল বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় কাবুলে ভারতের দূতাবাস পুরোপুরি চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়।