আঞ্চলিক শান্তি ও বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় ভারত-চীন সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ: মোদী

চীনের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

শুক্রবার ২৯ আগস্ট জাপান সফরকালে তিনি এই বক্তব্য দেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দিনের জাপান সফরে মোদী চারটি কারখানা পরিদর্শন করবেন, যার মধ্যে একটি ভারতীয় ক্রয়ের আশায় থাকা ই-১০ শিনকানসেন বুলেট ট্রেনের প্রোটোটাইপ তৈরির কাজ করছে। সফরে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও ব্যবসা খাতে একাধিক সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষর হবে।
জাপান সফর শেষে মোদী চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিতব্য সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন। এই আঞ্চলিক ব্লকে রাশিয়া, ইরান, পাকিস্তান, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তানসহ মোট ৯টি দেশ অন্তর্ভুক্ত।

মোদী বলেন, ভারত ও চীনের মতো বিশ্বের দুটি বৃহত্তম দেশের স্থিতিশীল ও অনুমানযোগ্য সম্পর্ক আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতার সময়ে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি।

সম্প্রতি দিল্লিতে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে মোদী বলেন, উভয় দেশ পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) শিল্পে সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপে ভারতের প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে নয়া দিল্লি আরও সক্রিয় হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের বাজার একে অপরের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।

২০২০ সালের লাদাখের গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকে ভারত-চীন সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে ছিল। তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উদ্যোগে উত্তেজনা কমে আসছে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে চীনে মোদী ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *