
সিরিয়ার নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইরানের বিরুদ্ধে ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করতে যাচ্ছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহয়ুদ্ধে ইরানের ভূমিকার কারণে সৃষ্ট ক্ষতির জন্য় এই ক্ষতিপূরণ দাবি করা হবে বলে মিডল ইস্ট মনিটর আল-মোদনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, সিরীয় জনগণ ও রাষ্ট্রের ক্ষতির জন্য়ই এই ক্ষতিপূরণ দাবি করা হচ্ছে। গৃহয়ুদ্ধের সময় বাশার আল-আসাদকে সমর্থন করে ইরান যে ‘অপরাধমূলক ও স্বেচ্ছাচারী নীতি’ গ্রহণ করেছিল, তার ফলে সিরিয়ার জনগণ এবং অবকাঠামোর যে ক্ষতি হয়়েছে, তার বিপরীতেই এই ক্ষতিপূরণ দাবি করা হচ্ছে।
তেহরান ১৩ বছরব্য়াপী গৃহয়ুদ্ধের সময় আসাদের পক্ষে সামরিক জোট গঠন করে মিলিশিয়়া বাহিনীকে সমর্থন দিয়়েছিল। ইরান আসাদ সরকারকে কয়়েক বিলিয়়ন ডলার অর্থ সহায়়তাও দিয়়েছিল, যা মূলত বিদ্রোহীদের (য়ারা বর্তমানে দেশ পরিচালনা করছে) বিরুদ্ধে ব্য়বহৃত হয়়েছিল। ইরানের এই সহায়তা আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের অংশ ছিল বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
ইরানের দেওয়়া সহায়়তার একটি বড় অংশ ঋণ হিসেবে আসাদ সরকারের কাছে জমা হয়়েছিল, য়া য়ুদ্ধবিধ্বস্ত সরকার পরিশোধ করতে পারেনি। আসাদ সরকারের পতনের পর এখন তেহরান নতুন সরকারের কাছে সেই ঋণ ফেরত চাচ্ছে।
সিরীয়় গণমাধ্য়মের খবরে বলা হয়়েছে, ইরান ৩০ থেকে ৫০ বিলিয়়ন ডলার দাবি করছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই খবরকে “অতিরঞ্জিত” বলে দাবি করেছেন।
সূত্র জানায়়, তেহরান ও দামেস্কের মধ্য়ে বর্তমানে কোনো য়োগায়োগ নেই এবং নতুন প্রশাসনের ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা নেই। দামেস্কে ইরানের দূতাবাস বা আলেপ্পোতে কনস্য়ুলেট খোলার বিষয়়েও কোনো পরিকল্পনা নেই।