জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউটের রেডিওথেরাপি মেশিন সব নষ্ট

দেশের ক্যান্সার চিকিৎসার একমাত্র পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠান জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেডিওথেরাপির সব মেশিন নষ্ট। চরম ভোগান্তিতে আছেন রোগীরা। রেডিওথেরাপির অপেক্ষায় থাকা রোগীরা প্রতিদিন হাসপাতালে গিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। কবে নাগাদ মেশিন চালু হবে সে তথ্যও জানাতে পারছেন না কর্তৃপক্ষ।

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘গত ২১ ডিসেম্বর দুপুরে রেডিওথেরাপি মেশিন নষ্ট হয়ে যায়। মেশিন ঠিক করার জন্য কমপ্রিহেনসিভ মেইনটেন্যান্স কন্ট্রাক্টের (সিএমসি) আওতায় যন্ত্র কেনা হয়েছে যে প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা বলছে দ্রুতই ঠিক হবে। কিন্তু কবে চালু করে দিতে পারবে তা বলতে পারছে না। আমরা স্থানীয়ভাবেও চেষ্টা করেছি মেরামত করার। কিন্তু সেটাও ফলপ্রসূ হয়নি। রেডিওথেরাপি বন্ধ থাকায় রোগীদের ভীষণ ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে মানুষ।’

হাসপাতালে ছয়টি রেডিওথেরাপি মেশিনের মধ্যে দুটি সচল ছিল। তবে ১০ দিন আগে সে দুটি যন্ত্রও নষ্ট হয়ে গেছে। সরেজমিন হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, রেডিওথেরাপি নিতে এসে মেশিন নষ্ট থাকায় ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা। ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত পটুয়াখালীর রোজিনা আক্তার বলেন, ‘পাঁচবার রেডিওথেরাপি দিয়েছি ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে। মঙ্গলবার রেডিওথেরাপি দিতে হাসপাতালে আসার পর জানতে পারি মেশিন নষ্ট।’

ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে যখন ছয়টি মেশিন সচল ছিল তখন দিনে ৫০০ থেকে ৫৫০ জন রেডিওথেরাপি নিতে পারতেন। দুটি মেশিন সচল থাকার সময় দিনে ২০০ থেকে ২২০ জনকে রেডিওথেরাপি দেওয়া হতো। কিন্তু রোগীর চাপ থাকত অনেক বেশি। রেডিওথেরাপির সিরিয়াল পেতে একজন রোগীর ছয়-সাত মাস অপেক্ষা করতে হতো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের রেডিয়েশন অনকোলজি ডিপার্টমেন্টের এক টেকনোলজিস্ট বলেন, ‘আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ায় দু-তিন বছর ধরে বিভিন্ন ধাপে আমাদের হাসপাতালের চারটি রেডিওথেরাপি মেশিন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। দুটি মেশিন দিয়ে থেরাপি দেওয়া হচ্ছিল। ২১ ডিসেম্বর এক রোগীকে থেরাপি দেওয়ার সময় একটি মেশিন নষ্ট হয়ে যায়। পরদিন সচল থাকা বাকি মেশিনটিও নষ্ট হয়ে গেছে।’

গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যান্সার হাসপাতাল প্রকল্পের সমন্বয়কারী ও প্রিভেন্টিভ অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, ‘ক্যান্সারের যন্ত্রপাতি কেনাকাটার ক্ষেত্রে সরকারের গতানুগতিক ক্রয়প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে চলবে না। ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের ছয়টি রেডিওথেরাপি মেশিন বা ঢাকা মেডিকেলের একটি, বিএসএমএমইউর একটি দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। এসব মেশিন দু-একটি করে নষ্ট হয়, আবার কেনে, এভাবে চললে ক্যান্সার চিকিৎসার উন্নয়ন হবে না। সরকার যেহেতু ক্যান্সার রোগীর বিদেশমুখিতা ঠেকাতে পরিকল্পনা করছে তাই এখনই ফাস্টট্র্যাক পলিসি অবলম্বন করতে হবে। যেসব হাসপাতালে ক্যান্সারের চিকিৎসা হয় একসঙ্গে সেসব হাসপাতালের জন্য ১৫-২০টি রেডিওথেরাপি মেশিন কেনা প্রয়োজন।’ বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির তথ্যানুযায়ী, দেশে ১৩-১৫ লাখ ক্যান্সার রোগী রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান অনুযায়ী, দেশে ৩০০ রেডিওথেরাপি মেশিনের প্রয়োজন, কিন্তু সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে রয়েছে মাত্র ৩৭টি। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *