
উগান্ডার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধী দলীয় প্রার্থী ববি ওয়াইনকে তার বাড়ি থেকে জোর করে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ববির দল ন্যাশনাল ইউনিটি প্ল্যাটফর্ম (এনইউপি) এ অভিযোগ করে বলছে, তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা জানানো হয়নি।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দলটি এ তথ্য জানায়। এর একদিন আগে ইন্টারনেট বন্ধ থাকা অবস্থায় টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে উগান্ডায় জাতীয় নির্বাচন হয়। ববিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উগান্ডা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে দেশটির শীর্ষ বিরোধী নেতা ববি ওয়াইন দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনির বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারের সময় ব্যাপক দমন-পীড়ন চলেছে। ভয় দেখানো হয়েছে বিরোধীদের।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ভোরে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ক্যাথরিন সোই জানান, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ববির অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, আল জাজিরার সঙ্গে যোগাযোগ করা এনইউপির এক কর্মকর্তা শুধু এটুকু নিশ্চিত করতে পেরেছেন, ‘সেনা ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বলে মনে হওয়া কয়েকজন ওয়াইনের বাড়ির দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন।’
তবে ববি তখন বাড়িতে ছিলেন কি না, কিংবা তাকে সেখান থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ওই কর্মকর্তা কিছু বলতে পারেননি। ক্যাথরিন সোই আরও জানান, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে আল জাজিরা উগান্ডার সেনাবাহিনী বা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণের পর ববি ওয়াইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন, সারাদেশে ব্যাপক ব্যালট বাক্স ভর্তি বা ভোট জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। তিনি উগান্ডার জনগণকে এই অপরাধী শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইওওয়েরি মুসেভেনির সরকার বছরের পর বছর বিরোধী রাজনীতিক ও তাদের সমর্থকদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ৮১ বছর বয়সী মুসেভেনি দেশটিতে প্রায় চার দশক ধরে ক্ষমতায় রয়েছেন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আরও একটি মেয়াদ নিশ্চিত করতে চাইছেন তিনি। ভোটের আগে তিনি বলেছিলেন, প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হবো।
শুক্রবার ভোট গণনার সময় নির্বাচন কমিশন জানায়, প্রায় ৮১ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর মুসেভেনি ৭৩ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন, যেখানে ববি ওয়াইনের প্রাপ্ত ভোট ২২ দশমিক ৭ শতাংশ। শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের কথা ছিল। নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে বিরোধী সমাবেশে সংঘর্ষ ও বিরোধী সমর্থকদের গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। তবে রাতভর সহিংসতায় কাম্পালা থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বুটামবালা শহরে অন্তত সাতজন নিহত হন।