
বাংলাদেশের সীমান্তের পাশে শিলিগুঁড়ি করিডোরে নতুন তিনটি সেনা ঘাঁটি স্থাপন করেছে ভারত। ভারতের মূল ভূখ-ের সঙ্গে সেভেন সিস্টার্স রাজ্যকে যুক্ত করেছে এই করিডোর, যা ‘চিকেন নেক’ করিডোর নামেও পরিচিত।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে গতকাল শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চিকেন নেক করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে বামুনি (ধুবরির কাছে), কৃষাণগঞ্জ এবং চোপড়াতে এসব ঘাঁটি বানানো হয়েছে।
দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার একটি উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ যেসব গ্যাপ ছিল সেগুলোর নজরদারি বাড়ানো এবং দ্রুত সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এই সেনা ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছে।
চিকেন নেককে ভারত তাদের অন্যতম স্পর্শকাতর স্থান হিসেবে বিবেচনা করে। কারণ যদি কোনোভাবে চিকেন নেক তাদের হাতছাড়া হয় তাহলে সেভেন সিস্টার্স রাজ্যের সঙ্গে তাদের স্থল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। ২২ কিলোমিটার বিস্তৃত চিকেন নেক করিডোরটিতে নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ এবং চীনের সীমান্ত রয়েছে।
ইন্ডিয়া টুডে তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ চেয়ারম্যান জেনারেল শাহির শামসেদ মির্জার ঢাকা সফর এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার বৈঠকের পর ভারত চিকেন নেকে তাদের নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে। পাকিস্তানের অন্যতম এ শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা বাংলাদেশের সঙ্গে কানেকটিভিটি এবং সামারিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ভারতের সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চিকেন নেক করিডোর তাদের সবচেয়ে ‘শক্তিশালী সামরিক করিডোর। সেখানে তাদের কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে। তিনি দাবি করেছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমনভাবে সাজানো আছে যে প্রয়োজন হলে চিকেন করিডোরে দ্রুত সময়ে তারা সেনা জড়ো করে ফেলতে পারবেন।
এর আগে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধানও একই সুরে বলেছিলেন, চিকেন নেকের বিষয়টি আমি ভিন্ন দিক থেকে দেখি। এটি আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অঞ্চল। কারণ পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মোতায়েন থাকা আমাদের সব সেনাকে এখানে দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়ো করে ফেলা সম্ভব।