ভারত থেকে অপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি নিষিদ্ধে আইনি নোটিশ

ভারত থেকে অপ্রয়োজনীয় সব ধরনের পণ্য আমদানি বন্ধে সরকারকে আইনি নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান। রোববার (২৯ ডিসেম্বর) রেজিস্ট্রি ডাকে এ নোটিশ পাঠানো হয় বাণিজ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান এবং আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে।

নোটিশে বলা হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে ভারত থেকে অপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করতে এবং হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ‘তুলনামূলক সুবিধা’ নীতি অনুসরণ করা হয়, যার মাধ্যমে দেশগুলো কম খরচে মানসম্পন্ন পণ্য আমদানি করে। কিন্তু ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে এই নীতি মানা হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বাড়ছে, যা দেশের শিল্প-কারখানা ও আমদানি-রপ্তানি খাতের জন্য ক্ষতিকর।

নোটিশদাতা অভিযোগ করেছেন, দেশের অধিকাংশ ভারতীয় পণ্য আমদানিকারক প্রকৃত ব্যবসায়ী নন। তারা মূলত ভারতীয় রপ্তানিকারকদের দালাল বা ডামি আমদানিকারক। এরা যোগসাজশের মাধ্যমে কম দামে পণ্য আমদানি করে দেশে বেশি দামে বিক্রি করেন এবং মুনাফার একটি অংশ হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাচার করেন।

এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় শিল্পের টিকে থাকা কঠিন হচ্ছে, সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাচার হয়ে যাওয়ায় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

নোটিশে ভারত থেকে অপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি বন্ধ এবং অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে বিষয়টি হাইকোর্টে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী মাহমুদুল হাসান।

এ বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় পণ্যের সুনির্দিষ্ট তালিকা দিতে না পারলেও তিনি বলেন, “ভারত থেকে ঢালাওভাবে সব ধরনের পণ্য আমদানি করা হয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *