
রাজা তৃতীয় চার্লস বলেছেন, ভঙ্গুর বৈশ্বিক সম্পর্কের এই সময়ে মুসলিম ধর্মের প্রতি আরো শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার প্রয়োজন আছে। গত ১৭ জুলাই (বৃহস্পতিবার) অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদত্ত এক ভাষণে তিনি এই কথা বলেন।
অক্সফোর্ড সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে তিনি এই ভাষণ প্রদান করেন। ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সেন্টারের পৃষ্ঠপোষক রাজা নিজেই। ১৯৯৩ সালে এই কেন্দ্রে ভাষণ দিয়েছিলেন, তখন তিনি প্রিন্স চার্লস ছিলেন। তখন ইসলাম সম্পর্কে পাশ্চাত্যের ভুল বোঝাবুঝি বিষয়ক তাঁর বক্তৃতা আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
রাজা তৃতীয় চার্লস অক্সফোর্ড সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজের সাফল্যের সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘এই কেন্দ্রের নিরপেক্ষ গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি চলমান প্রতিশ্রুতি, যা সংলাপ, গভীর বোঝাপড়া ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার নীতিতে ভিত্তি করে পরিচালিত হয়, তা আজকের বিশ্বের জন্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন।’
অক্সফোর্ড সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন অক্সফোর্ডের বিশপ স্টিফেন ক্রফট এবং নাইজেরিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের আধ্যাত্মিক নেতা সুলতান মুহাম্মদ সাআদ আবুবকর তৃতীয়। রাজা সেইসব মানুষের প্রশংসা করেন যারা ধর্মীয় বোঝাপড়া ও সহনশীলতা বাড়ানোর জন্য কাজ করছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি না বললেও চলে যে, কেন্দ্রটি এই বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াসে যে তাত্পর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে, তা দেখে আমি অত্যন্ত আশ্বস্ত।’ তিনি কেন্দ্রের এক নতুন শাখা ‘কিং চার্লস থার্ড উইং’-এর ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন, তাঁর সম্মানে শাখাটির নামকরণ তাঁর নামে হয়েছে।
এই কেন্দ্রের পরিচালক ড. ফরহান নিজামি, যিনি শুরু থেকেই ৪০ বছর ধরে রাজার সঙ্গে কাজ করছেন, বলেন, ‘ইংল্যান্ডের চার্চের প্রধান হিসেবে রাজা তাঁর ধর্মীয় ঐতিহ্যের ভেতর থেকেই অন্যদের সম্পর্কে বোঝার যে প্রয়াস চালান, সেটাই আন্তঃধর্মীয় বোঝাপড়ার একটি মজবুত ভিত্তি গড়ে তোলে। মুসলিমদেরও উচিত, নিজেদের ধর্মীয় মূল্যবোধের ভেতর থেকে অন্য ধর্মের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা।’
সূত্র: বিবিসি ও আইটিভি ডটকম