হিমশিম খাচ্ছে ইসরায়েল, গঠিত হচ্ছে বিশেষ বাহিনী ‘ডেভিড ডিভিশন’

ইসরায়েলে সৈন্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় নতুন ডিভিশন গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়ালা’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই ডিভিশনের নাম হবে ‘ডেভিড ডিভিশন’। এতে পুরুষ ও মহিলা উভয় সৈন্যই থাকবেন।

সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতির বয়স পার করে যাওয়া সৈন্য, স্বেচ্ছাসেবক এবং ‘হারেদিম’ সম্প্রদায়ের সদস্যরা এই ডিভিশনে যোগদান করতে পারবেন। ‘হারেদিম’ হলো ইহুদি ধর্মের অতি রক্ষণশীল একটি শাখা, যাদের সদস্যরা এতদিন সামরিক বাহিনীতে যোগদান থেকে অব্যাহতি পেতেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই ডিভিশনে ৪০,০00 সৈন্য যুক্ত হতে পারে।

ওয়ালা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, নতুন এই সৈন্যরা সীমান্তরক্ষীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। ভবিষ্যতে বহুমুখী যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবেলায়ও তাদের কাজে লাগানো হতে পারে।

এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের এক জরিপে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশটির সৈন্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। সেনাবাহিনীতে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং মানসিক চাপের কারণে তাদের মনোবল ভেঙে পড়ছে।

সংরক্ষিত বাহিনীর সৈন্যদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং কর্মজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, সংরক্ষিত বাহিনীর কয়েক ডজন সৈন্য ঘোষণা দিয়েছেন যে, শাস্তি পেলেও তারা গাজায় সামরিক অভিযানে আর অংশ নেবেন না।

গাজায় চলমান যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর শত শত সংরক্ষিত সদস্য তাদের কমান্ডারদের জানিয়ে দেশ ত্যাগ করেছেন বলেও জানা গেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৬৬৬ জন সৈন্য ও কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২৭ অক্টোবর স্থল অভিযান শুরুর পর থেকে নিহতের সংখ্যা ৩১৪ জন।

এছাড়াও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৩,৯২২ জন কর্মকর্তা ও সৈন্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১,৯৯৭ জন স্থল যুদ্ধে আহত হন।